বিজিএমইএ ও অ্যাসেটের ইবিটি পর্যালোচনা কর্মশালা, সনদপত্র বিতরণ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বিজিএমইএ ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত অ্যাসেট প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে ‘বিজিএমইএ-ইবিটি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালা ও সনদপত্র বিতরণ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের এক্সিবিশন হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়িত ‘অ্যাসেট’ প্রকল্পের আওতায় বিজিএমইএ পোশাকশিল্পে ‘এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং’ (ইবিটি) পরিচালনা করছে। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
বিজিএমইএ ও অ্যাসেট প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত তিনটি সাইকেলে ১৯৩টি ব্যাচের মাধ্যমে ৪ হাজার ৬৩২ জন প্রশিক্ষণার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সাইকেলের ৯৭টি ব্যাচের ২ হাজার ৩২৮ জনকে অনুষ্ঠানে সনদ দেওয়া হয়। বর্তমানে চতুর্থ সাইকেলের ৯৬টি ব্যাচের প্রশিক্ষণ চলমান।
মো. দাউদ মিয়া বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে বিজিএমইএ ও অ্যাসেট প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগ পোশাকশিল্পের উৎপাদনশীলতা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হলেও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের নতুন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
তিনি শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি চাহিদাভিত্তিক দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ভবিষ্যৎ কর্মসূচিতে বিজিএমইএর মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাকশিল্পের কর্মীদের দক্ষতা অন্তত লেভেল-৩ ও লেভেল-৪ পর্যায়ে উন্নীত করা জরুরি।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পোশাকশিল্পকে আরও দক্ষ ও আধুনিক হতে হবে। কারখানাভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং মডেল কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিজিএমইএর বর্তমান পর্ষদ শুধু রপ্তানি বাড়ানোর নয়, দক্ষ কর্মী তৈরি করে পণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। দক্ষ জনশক্তি গঠনে সরকারের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে উপযুক্ত নীতিসহায়তা পেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিজিএমইএর ভূমিকা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সামসুর রহমান খান, অ্যাসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মীর জাহিদ হাসান এবং বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী আইয়ুব নবী খান।
এ ছাড়া বিজিএমইএর পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট–সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন ভূঁইয়া এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন জাবেদ হোসেন ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে অন্য অতিথিরাও দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্পের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।