EN ☀️
×

Follow Us

বাণিজ্য

ব্যাংক ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামানোর দাবি বিটিএমএর, গভর্নরকে চিঠি

বন্ধ ও আংশিক বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু, ইডিএফ তহবিল বৃদ্ধি ও ঋণ শ্রেণীকরণ নীতি শিথিলের দাবিতে গভর্নরকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

ব্যাংক ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামানোর দাবি বিটিএমএর, গভর্নরকে চিঠি

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

রপ্তানিমুখী স্পিনিং, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যাংক ঋণের কার্যকর সুদহার পুনরায় ৯ শতাংশ পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। ১০ দফা প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বরাবর চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে রপ্তানিমুখী প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের কার্যক্রম টেকসই রাখা এবং ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি হ্রাসে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বিটিএমএ জানায়, দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পখাতের সর্ববৃহৎ এই সংগঠনের বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৮৮৩টি সদস্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বেসরকারি বিনিয়োগ রয়েছে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত থেকে, আর এর ৭০ শতাংশ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সহায়তা দেয় দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্প। এই খাতে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় এক কোটি এবং পরোক্ষভাবে প্রায় চার কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট, ব্যাংক ঋণের সুদহার বৃদ্ধি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে দেশের অধিকাংশ টেক্সটাইল মিল তীব্র আর্থিক চাপে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিটিএমএ। উৎপাদন আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা অবস্থাতেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে হওয়ায় বহু প্রতিষ্ঠানের মূলধন উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে, এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু কারখানা উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

বিটিএমএর ১০ দফা প্রস্তাব

  • বিআরপিডি-১ সার্কুলার নং-১৩/২০২৬-এর আওতায় ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সিআইবি (CIB) মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু
  • Green Transformation Fund (GTF)-এর আকার বৃদ্ধি ও সুদহার বিনিয়োগবান্ধব পর্যায়ে পুনর্নির্ধারণ
  • ব্যবসা ও আর্থিক পুনর্গঠন সংক্রান্ত আবেদনের সময়সীমা ৩০ জুন থেকে বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত করা
  • ব্যাংক ঋণের কার্যকর সুদহার পুনরায় ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা
  • ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির বিপরীতে বিল পরিশোধ ৭ কর্মদিবসের মধ্যে নিশ্চিত করা
  • মেয়াদি ঋণ শ্রেণীকরণে ওভারডিউ কিস্তির সংখ্যা ৩টি থেকে বাড়িয়ে পূর্বের মতো ৬টি নির্ধারণ
  • Export Development Fund (EDF)-এর সীমা ও সুদহার পুনর্বিবেচনা
  • ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমজনিত জটিলতা নিরসন
  • প্রচ্ছন্ন রপ্তানিমুখী (Deemed Export) শিল্পের ক্ষেত্রেও প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট সুবিধা প্রযোজ্য করার স্পষ্টীকরণ
  • বিশেষায়িত অঞ্চলে অবস্থিত মিলগুলোর পণ্য সরবরাহের বিপরীতে নগদ সহায়তা প্রদান

চিঠিতে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল উল্লেখ করেন, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে একদিকে রপ্তানিমুখী প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্প পুনরুজ্জীবিত হবে, রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান বাড়বে; অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি হ্রাস, ঋণ পুনরুদ্ধার ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় হবে। জাতীয় অর্থনীতি ও শিল্পায়নের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় প্রস্তাবগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন