হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি পেল না ‘বাংলার জয়যাত্রা’, ফিরছে শারজাহ বন্দরে
গত ৪০ ঘণ্টা ধরে জলপথে অপেক্ষার পর কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছে বিএসসি। জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিক বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন।
ডেইলি সান রিপোর্ট, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির সুযোগে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পসের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে অনুমতি না পাওয়ায় ৩১ জন নাবিক ও ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরের দিকে ফিরে যাচ্ছে।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল লাল-সবুজের পতাকাবাহী এই জাহাজটি। প্রায় ৪০ ঘণ্টা চলার পর প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছালে ইরানি কর্তৃপক্ষ জাহাজটির অনুমতির আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর বিএসসির নির্দেশনায় জাহাজটি নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য শারজাহর দিকে রওনা দেয়।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জাহাজটি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি। আমরা বর্তমানে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। নাবিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জাহাজটিকে নিরাপদ অবস্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকলেও জাহাজের নাবিকদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপেক্ষমাণ সময়ে নাবিকরা প্রতিদিন ১২ ডলার করে ঝুঁকি ভাতা পাচ্ছেন। জাহাজে পর্যাপ্ত খাদ্য ও জ্বালানি মজুদ রয়েছে। পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে জাহাজে ‘স্টারলিংক’ ইন্টারনেট সংযোগ চালু করা হয়েছে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’। কিন্তু ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আকস্মিক উত্তজনা শুরু হলে জাহাজটি ঝুঁকির মুখে পড়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারি জাহাজটির খুব কাছেই একটি ড্রোন বা মিসাইল আঘাত হানলে নাবিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।
সূত্র মতে, যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও গত ৪০ দিনে কয়েকশ জাহাজের জট তৈরি হয়েছে। ইরান কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি দিচ্ছে। ‘বাংলার জয়যাত্রা’র পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক বা ব্রাজিলের কোনো একটি বন্দর- যা চার্টারারের চাহিদার ওপর নির্ভর করছে। আপাতত বিএসসির মূল লক্ষ্য নাবিকসহ জাহাজটিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত রাখা।