আইসিসিবিতে চামড়া শিল্পের প্রযুক্তি প্রদর্শনী শুরু
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চামড়া শিল্প, জুতা তৈরির যন্ত্রপাতি, জুতার বিভিন্ন উপকরণ, রাসায়নিক ও আনুষঙ্গিক পণ্যের সমাহার নিয়ে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘লেদারটেক বাংলাদেশ’।
রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) এক্সপো ভিলেজে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) প্রদর্শনীর ১১তম আসরের উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন- লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। এছাড়া বাংলাদেশসহ চীন, ভারত ও পাকিস্তানের শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, “বাংলাদেশে চামড়া শিল্প এখনো তার পূর্ণ সম্ভাবনার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। ‘লেদারটেক’ শুধু একটি প্রদর্শনীই নয়, বরং সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের এক চমৎকার প্রয়াস। চামড়া শিল্প যে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে প্রস্তুত—এ ধরনের আয়োজন তা-ই জানান দেয়। সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের চামড়া শিল্প আরও অগ্রসর হবে।”
লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, “চামড়া শিল্পে বাংলাদেশ এখন রপ্তানি-ভিত্তিক উৎপাদন ত্বরান্বিত করার এক সন্ধিক্ষণে রয়েছে। পরবর্তী ধাপে যেতে নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সঠিক সংযোগ গড়ে তুলতে পারলে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে।”
বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস এবং ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন বলেন, “চামড়াজাত পণ্য আমাদের দেশের
সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতগুলোর একটি। ‘লেদারটেক’-এর মতো আয়োজন আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখছে।”
আয়োজক এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতান ভূঁইয়া জানান, এবারকার আসরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও চীনসহ মোট আটটি দেশ থেকে প্রায় ২০০ কোম্পানি তাদের প্রযুক্তি ও পণ্য প্রদর্শন করছে। এতে কাউন্সিল ফর লেদার এক্সপোর্টস ইন্ডিয়া (সিএলই), পাকিস্তান ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (পিটিএ), ইন্ডিয়া ফুটওয়্যার কম্পোনেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইফকোমা) এবং চীনের গুয়াংডং সু-মেকিং মেশিনারি অ্যাসোসিয়েশনের (জিএসএমএ) পৃথক প্যাভিলিয়ন রয়েছে। প্রদর্শনীতে দেশের শীর্ষ শিল্প সংগঠনগুলোও যুক্ত আছে, যার মধ্যে এলএফএমইএবি প্রদর্শনীর বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করছে।
‘লেদারটেক বাংলাদেশ’-এর যাত্রা শুরু ১১ বছর আগে। শুরুতে এটি ছিল মূলত একটি প্রযুক্তি প্রদর্শনী প্ল্যাটফর্ম, যার লক্ষ্য ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জুতা, ভ্রমণ সামগ্রী ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন প্রযুক্তি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সময়ের সঙ্গে এটি চামড়া, জুতা এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের উদ্ভাবন ও বাজার সম্প্রসারণের নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। গত এক দশকে প্রদর্শনীটি শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
তৈরি পোশাকের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হলো চামড়া ও জুতা শিল্প। বিশ্ববাজারে চামড়াজাত পণ্যের ৩ শতাংশ এবং মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ বাংলাদেশ পূরণ করে। শিল্পনীতি ২০২২-এ খাতটিকে রপ্তানি বহুমুখীকরণের অগ্রাধিকার খাত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা খাতটিকে বৈশ্বিক উৎস হিসেবে আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অক্টোবর শেষে চামড়া ও জুতা খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৯১.৫ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৫৩৯.৪ মিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক অস্থিরতা কাটিয়ে খাতটি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে উঠছে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরি করছে।
লেদারটেক বাংলাদেশ ২০২৫-এ প্রদর্শিত প্রযুক্তি, উপকরণ ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী সংশ্লিষ্ট কারখানার জন্য বিশেষভাবে উপকারী হবে। বিশেষ করে যারা উৎপাদন বাড়াতে চান, নতুন পণ্য বাজারে আনতে চান কিংবা খাতে নতুন বিনিয়োগের চিন্তা করছেন— তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। গত কয়েক বছর ধরে প্রদর্শনীটি নতুন উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে এবং স্থানীয় জুতা উৎপাদন শিল্পেও ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, প্রদর্শনী চলবে ৪ থেকে ৬ ডিসেম্বর প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। ব্যবসায়িক দর্শনার্থীরা বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন।