স্বাস্থ্যসেবা এবং ঔষধ শিল্পের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করার তাগিদ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশে স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল ইকুইপমেন্টস এবং ঔষধ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে যুগোপযোগী নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব মতামত উঠে আসে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ।
ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, এপিআই শিল্পে পিছিয়ে থাকা দেশের ঔষধ শিল্পের জন্য বড় হুমকি। পাশাপাশি মেডিকেল ইকুইপমেন্টস ও ঔষধ শিল্পের লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়নে জটিলতা বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে।
জেএমআই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যুগোপযোগী নীতিমালা বাস্তবায়ন না হলে মেডিকেল ইকুইপমেন্টস শিল্পের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এপিআই শিল্পে বিনিয়োগ করতে একজন উদ্যোক্তাকে ৪৭টি সংস্থার লাইসেন্স নিতে হয়—যা একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস দিয়ে সহজ করা জরুরি।
ব্র্যাক হেলথ প্রোগ্রামের পরিচালক মো. আকরামুল ইসলাম বলেন, লাইসেন্সিং সহজ না হলে বেসরকারি খাতকে স্বাস্থ্যসেবা ও ঔষধ শিল্পে আকৃষ্ট করা যাবে না।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আসরাফ হোসেন জানান, লাইসেন্স যাচাইয়ে সময় লাগলেও ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করা হয় না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইদুর রহমান বলেন, ঔষধ শিল্পের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার কাজ করছে এবং কমপক্ষে তিন বছর মেয়াদি লাইসেন্স প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্থানীয় এপিআই শিল্প স্থাপন, গবেষণা এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি বিডার মহাপরিচালক গাজী এ কে এম ফজলুল হক জানান, মেডিকেল ইকুইপমেন্টস শিল্পের জন্য স্বতন্ত্র নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সেমিনারে এফবিসিসিআই’র নেতৃবৃন্দ স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, বাজেট বৃদ্ধি ও হাসপাতাল সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।