EN ☀️
×

Follow Us

খেলা

ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ, রায় ২২ ডিসেম্বর

ডেইলি সান রিপোর্ট, স্পোর্টস

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ, রায় ২২ ডিসেম্বর

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে করা মামলার রায় আগামী ২২ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে। ছয় মাসের বিচারপ্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার এ তারিখ জানিয়েছেন আদালত।

ম্যারাডোনার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিচার হয়েছে। বৃহস্পতিবার শেষ দিনের শুনানিতে তাঁর মেয়ে দালমা ম্যারাডোনা ও কয়েকজন আসামি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে দালমা বলেন, ‘আমি আশা করি, আমার বাবা তাঁর প্রাপ্য ন্যায়বিচার পাবেন। অন্য যেকোনো মানুষের মতোই।’

মামলার প্রধান আসামি ম্যারাডোনার সাবেক প্রধান চিকিৎসক লেওপোলদো লুকে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। হৃদ্‌যন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়া ও ফুসফুসে পানি জমাকে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মস্তিষ্কে ছোট একটি অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার জন্য বুয়েনস আইরেসের উত্তরে তিগ্রে শহরের একটি বাড়িতে ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পুরো আর্জেন্টিনায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এপ্রিলে শুরু হওয়া বিচারপ্রক্রিয়ায় ৭০ জনের বেশি সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাত আসামির মধ্যে ছয়জনের জন্য চার থেকে ১২ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। প্রধান আসামি লুকের জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছরের সাজা চাওয়া হয়েছে।

বুধবার শেষ যুক্তিতর্কে লুকের আইনজীবীরা কৌঁসুলিদের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন যে, ম্যারাডোনার মৃত্যু আগে থেকেই আঁচ করা সম্ভব ছিল। তাঁরা লুকেকে মামলার ‘বলির পাঁঠা’ বলে উল্লেখ করেন।

বিচার চলাকালে লুকে বারবার নিজের পক্ষে কথা বলেছেন। তাঁর আইনজীবীরা অডিও রেকর্ডিং, বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ ও ম্যারাডোনার ময়নাতদন্তের ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করেন। এতে ম্যারাডোনার মেয়েরা ক্ষুব্ধ হন।

লুকে আদালতে বলেন, ‘আমাকে আক্রমণ করা সহজ, কারণ ম্যারাডোনার সবচেয়ে কাছের মানুষ আমিই ছিলাম। আমার পক্ষে কথা বলার মতো একজনই আছেন, দিয়েগো। আমি তাঁকে অনেক যত্ন করতাম। আমি তাঁকে ভালোবাসতাম। তিনি ছিলেন আমার আদর্শ ও বন্ধু।’


মামলার মূল প্রশ্ন হলো, হাসপাতালের পরিবর্তে ব্যক্তিগত বাড়িতে ম্যারাডোনার সুস্থ হওয়ার ব্যবস্থা করা চিকিৎসায় অবহেলা ছিল কি না। সরকারি কৌঁসুলিদের দাবি, বাড়িটিতে হাসপাতালের বিছানা, ডিফিব্রিলেটর কিংবা দ্রুত পাওয়া যায় এমন অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা ছিল না।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সাক্ষ্যে বলেছেন, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনার শরীরে পানি জমা, দ্রুত হৃদ্‌স্পন্দন ও শ্বাসকষ্টের মতো বিপদের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, এসব লক্ষণ দেখা সত্ত্বেও তাঁর দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি।

আরও পড়ুন