ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করল বিসিবি
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
বিপিএল স্থগিত হওয়ায় দেশের ক্রিকেটারদের আয়ে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হলে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচ ফি বাড়ানোর ঘোষণা দেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরুষদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় লাখ টাকা করা হয়েছে। গত এপ্রিলে তামিমের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ফি ১ লাখ টাকা করেছিল।
পাশাপাশি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় ক্রিকেট লিগের টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ ফি ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
শুধু পুরুষ ক্রিকেটই নয়, নারী ক্রিকেটেও ম্যাচ ফি বাড়ানোর বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে বিসিবি। নারী ঘরোয়া ক্রিকেটে তিন দিনের ম্যাচের পরিবর্তে চার দিনের ম্যাচ চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি চার দিনের ম্যাচে ম্যাচ ফি ২০ হাজার থেকে বেড়ে ৪০ হাজার, এক দিনের ম্যাচে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার এবং টি-টোয়েন্টিতে ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
ম্যাচ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন তামিম। তার মতে, বিপিএল স্থগিত হওয়ায় ক্রিকেটাররা এবার যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন, সেটির জন্য এক বছরের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেয়ে ভবিষ্যতের জন্য তাদের আয় বাড়ানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তামিম বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, কারণ এখন তারা প্রায় ১০০ শতাংশ বেশি পাচ্ছে। ফলে ঢাকা লিগে কিংবা এবার বিপিএল না খেলায় তাদের যে আর্থিক প্রভাব পড়েছে... আমি চাইনি শুধু এক বছরের জন্য সেটির ক্ষতিপূরণ দিতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বোর্ডে যখন প্রস্তাবটি এসেছে, সবাই একমত হয়েছে যে আমরা যখন ম্যাচ ফি বাড়াব, তখন সেটা সব সময়ের জন্যই করব।’
অর্থাৎ, বিপিএল স্থগিত হওয়ার কারণে সাময়িকভাবে ক্রিকেটারদের হাতে অর্থ তুলে দেওয়ার বদলে ঘরোয়া ক্রিকেটের আয় কাঠামোতেই স্থায়ী পরিবর্তন আনতে চাইছে বিসিবি। ম্যাচ ফি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত তাই দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য শুধু তাৎক্ষণিক স্বস্তিই নয়, ভবিষ্যতে নিয়মিত আয়ের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।