এবার ফিফা সভাপতিকে নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিলো উয়েফা
ডেইলি সান রিপোর্ট, স্পোর্টস
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত কিছু বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ সংস্থায় বিভাজন নতুন রূপ নিয়েছে। ফিফার এসব পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা জরুরি বৈঠকে বসেছে। রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকে ফিফার পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা, প্রয়োজনে আগামী বিশ্বকাপ বয়কট এবং ইনফান্তিনোকে সরিয়ে নতুন সভাপতি বেছে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া উয়েফার এক শীর্ষ কর্মকর্তা নিজের চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছাড়া ফিফার দায়িত্বে আমরা যেকোনো নতুন মুখকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত।
উয়েফা নেতৃত্বের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রশাসনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা অসন্তোষের গভীরতা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে পিএসজির মালিক ও কাতারি ক্রীড়া প্রশাসক নাসের আল-খেলাইফির নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে ৫২ বছর বয়সী খেলাইফি নিজে ফিফা সভাপতির পদে বসতে আগ্রহী নন বলে জানা গেছে।
তাঁর এক প্রতিনিধি জানান, ফিফা সভাপতি পদে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা বা পরিকল্পনা নাসেরের নেই। তিনি বর্তমানে যেভাবে ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক ফুটবলকে সহযোগিতা করছেন, সেভাবেই ভূমিকা রেখে যাবেন।
ইউরোপীয় সুপার লিগ প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে খেলাইফি ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের (ইসিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি উয়েফা নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং বিইন (beIN) মিডিয়া গ্রুপের প্রধান, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বড় টুর্নামেন্টের সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ন্ত্রণ করে।
এদিকে ফিফার এই একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে যৌথ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্লাবগুলোর সংগঠন ইসিএ-ও। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, বিশ্বের ৮৫০টিরও বেশি ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করলেও ফিফার এই বিশাল উদ্যোগ সম্পর্কে তারা সংবাদমাধ্যমের সূত্র ধরে জানতে পেরেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে স্বচ্ছ ও কার্যকর আলোচনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
তবে চাইলেই ইনফান্তিনোকে ফিফা সভাপতির পদ থেকে সরানো উয়েফার জন্য সহজ হবে না। কারণ ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে উয়েফার আওতাধীন দেশের সংখ্যা মাত্র ৫৫টি। ফলে পুরো ইউরোপ ঐক্যবদ্ধ হলেও বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় গাণিতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করাই হবে ইনফান্তিনোবিরোধী শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।