EN ☀️
×

Follow Us

খেলা

ফাইনালে রেকর্ড ১১ সেভ, স্পেনের বিরুদ্ধে একাই লড়লেন মার্তিনেজ

চোটের পরামর্শ উপেক্ষা করে টেপ পেঁচিয়ে মাঠে, তবু আটকাতে পারলেন না তোরেসের গোল

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

ফাইনালে রেকর্ড ১১ সেভ, স্পেনের বিরুদ্ধে একাই লড়লেন মার্তিনেজ

ফাইনালে রেকর্ড ১১টি সেভ করেও হার এড়াতে পারলেন না আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন, ‘নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়’— ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের ক্ষেত্রেও যেন ঘটল ঠিক তাই। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ যেখানে স্পেনের বক্সে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি, সেখানে গোলবারের নিচে একাই লড়াই চালিয়ে গেছেন মার্তিনেজ। 

স্পেনের একের পর এক আক্রমণ বুক চিতিয়ে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১১টি সেভের অবিশ্বাস্য এক নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। কিন্তু ফুটবল বিধাতা হয়তো অন্য কিছু লিখে রেখেছিলেন। ১০৬ মিনিটে ১০ জনের আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভেঙে ফেররান তোরেস যখন বল জালে জড়ান, তখন মার্তিনেজের সেই অতিমানবীয় লড়াই রূপ নেয় এক চরম ট্র্যাজেডিতে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ইংল্যান্ড ও আমেরিকার চিকিৎসকেরা মার্তিনেজকে হাতের অনামিকার চোটের কারণে অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার জন্য অস্ত্রোপচার পিছিয়ে ব্যথানাশক টেপ পেঁচিয়ে মাঠে নেমে পড়েন ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। পুরো টুর্নামেন্টে ৫ ম্যাচে ৭ গোল হজম করায় সমালোচনা কম হয়নি। কিন্তু ফাইনালের মহালড়াইয়ে মার্তিনেজ প্রমাণ করলেন কেন তাকে বড় ম্যাচের আসল নায়ক বলা হয়।

ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১০টি এবং অতিরিক্ত সময়ে ১টি সহ মোট ১১টি নিখুঁত সেভ করেন তিনি। বিশেষ করে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে লামিন ইয়ামালের ফ্রি-কিক এবং দানি ওলমোদের নিশ্চিত গোলের শটগুলো যেভাবে তিনি ফিরিয়েছেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।

মার্তিনেজ একা লড়াই করলেও দলের বাকি ১০ জন ফুটবলার তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। ৯০ মিনিটে মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দল ১০ জনের হয়ে পড়ে এবং অতিরিক্ত সময়ে রক্ষণভাগ ক্লান্ত হয়ে যায়। স্পেনের হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে মার্তিনেজ একের পর এক শট ফিরিয়ে দিলেও ১০৬ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। তোরেসের সেই এক গোলেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের টানা দ্বিতীয়বার কাপ নেওয়ার স্বপ্ন চূর্ণ হয়ে যায়।

ম্যাচ শেষে ট্রফি উদযাপনের আলো যখন স্পেনের ওপর, তখন গোলপোস্টের কোণে মার্তিনেজের বিষাদগ্রস্ত মুখটি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় ট্রয়ের হেক্টরের মতোই এক ট্র্যাজিক হিরোর প্রতীক হয়ে রইল।

আরও পড়ুন