EN ☀️
×

Follow Us

খেলা

বিশ্বকাপ ২০২৬ কোয়ার্টার ফাইনাল: ৮ দলের ৬টিই ইউরোপের, আর্জেন্টিনা-মরক্কো কি পারবে সাম্রাজ্য ভাঙতে?

ইউরোপের বাইরে অনুষ্ঠিত কোনো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এত বেশি ইউরোপীয় দল ১৯৯৪ সালের পর এই প্রথম দেখা গেল

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

বিশ্বকাপ ২০২৬ কোয়ার্টার ফাইনাল: ৮ দলের ৬টিই ইউরোপের, আর্জেন্টিনা-মরক্কো কি পারবে সাম্রাজ্য ভাঙতে?

ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে বরাবরই আলোচনায় থাকেন তারা। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তিন তারকা—আর্লিং হালান্ড, লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: গেটি ইমেজ

অ অ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন তার চূড়ান্তে রূপ নিয়েছে। শেষ ১৬-এর নাটকীয়তা শেষে নিশ্চিত হয়ে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালের শীর্ষ আট দল। তবে এবারের শেষ আটের সমীকরণ ফুটবলপ্রেমীদের মনে এক বড় বিস্ময় এবং কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে বিশ্বায়নের কথা বলা হলেও, কোয়ার্টার ফাইনালের লাইনআপ বলছে অন্য কথা।

বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রকে একপাশে ঠেলে দিয়ে শেষ আটের ৬টি স্থানই দখল করে নিয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। লাতিন আমেরিকা আর আফ্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে টিকে আছে কেবল একটি করে দেশ!

১৯৩০ সাল থেকে ইউরোপের বাইরে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইউরোপীয় দলগুলোর রেকর্ড বরাবরই ম্যাড়মেড়ে ছিল (মাত্র ২ বার শিরোপা জয়— ২০১০ ও ২০১৪)। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে উত্তর আমেরিকার কন্ডিশনে সেই 'অ্যাওয়ে জুজু' কাটিয়ে শেষ আটে ৬টি টিকিটই কেটেছে ইউরোপীয় দলগুলো, যা ১৯৯৪ সালের পর ইউরোপের বাইরে সর্বোচ্চ।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ ১০-এর মধ্যে ৭টি দলই ছিল ইউরোপের। মাঠের লড়াইয়েও সেই আধিপত্য বজায় রেখে স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও বেলজিয়াম শেষ আট নিশ্চিত করেছে। পর্তুগাল বা নেদারল্যান্ডসের মতো জায়ান্টরা ছিটকে গেলেও সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছে নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের মতো উদীয়মান শক্তিরা।

ইউরোপের একচ্ছত্র আধিপত্য

ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ড— ইউরোপের এই ৬ পরাশক্তি যেভাবে শেষ ১৬-এর বাধা পার করেছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে বিদায় করা কিংবা নরওয়ের দুর্দান্ত ফর্ম প্রমাণ করে, আধুনিক ফুটবলের কৌশল, অবকাঠামো এবং শক্তির দিক থেকে ইউরোপ কতটা এগিয়ে গেছে। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল যেন এখন রূপ নিয়েছে একটি মিনি 'ইউরো কাপে'!

ইউরোপের এই রাজত্বের পেছনের আসল কারণ লুকিয়ে আছে তাদের বিশ্বসেরা ক্লাব ফুটবল কাঠামোয়। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগে খেলে বিশ্বের সব প্রান্তের ফুটবলাররা তৈরি হলেও, সেই আধুনিক পরিকাঠামো, উন্নত স্পোর্টস সায়েন্স এবং ক্ষুরধার ট্যাকটিক্যাল কৌশলের শতভাগ সুবিধা পাচ্ছে ইউরোপেরই নিজস্ব জাতীয় দলগুলো। ফলে মাঠের পারফরম্যান্সে বাকি বিশ্ব থেকে প্রতিনিয়ত ব্যবধান বাড়িয়ে চলেছে তারা।

লাতিন আমেরিকার শেষ আশা আর্জেন্টিনা

ফুটবলের মক্কা বলা হয় লাতিন আমেরিকাকে। কিন্তু এবার ব্রাজিল, কলম্বিয়া বা উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিরা নকআউট পর্বের বিভিন্ন ধাপে বিদায় নিয়েছে। মিশরের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ মুহূর্তের অলৌকিক প্রত্যাবর্তনে লাতিন আমেরিকার একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে টিকে আছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। পুরো মহাদেশের কোটি কোটি ভক্তের স্বপ্ন এখন একাই কাঁধে বয়ে বেড়াচ্ছেন লিওনেল মেসি ও তার দল। আগামী ১১ জুলাই কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ইউরোপীয় প্রাচীর ভাঙার কঠিন মিশনে নামবে আলবিসেলেস্তেরা।

আফ্রিকার একাকী সিংহ মরক্কো

গত বিশ্বকাপের মতোই এবারও আফ্রিকার একমাত্র গৌরব ধরে রেখেছে মরক্কো। ঘানা, নাইজেরিয়া বা সেনেগালের মতো দলগুলো যখন ব্যর্থ, তখন মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে কেন তারা বিশ্বমঞ্চে সমীহ জাগানো দল। তবে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ৯ জুলাই তাদের সামনে দাঁড়াবে ইউরোপের অন্যতম সেরা শক্তি ফ্রান্স। ১ বনাম ৬-এর এই অসম লড়াইয়ে মরক্কো কি পারবে আফ্রিকার পতাকা উঁচিয়ে ধরতে?

ফুটবল কি তবে দিনশেষে ইউরোপের ক্লাব সংস্কৃতির কাছেই বন্দি হয়ে যাচ্ছে? লাতিন আমেরিকার শৈল্পিক ফুটবল আর আফ্রিকার শারীরিক শক্তির ফুটবলকে কি গিলে খাচ্ছে ইউরোপের নিখুঁত আধুনিক ট্যাকটিকস? এই প্রশ্ন এখন ফুটবল বোদ্ধাদের টেবিলে।

আগামী দুই দিনের বিরতি শেষে যখন কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই শুরু হবে, তখন পুরো বিশ্বের চোখ থাকবে— আর্জেন্টিনা আর মরক্কো কি পারবে ইউরোপের এই একচ্ছত্র সাম্রাজ্য ভেঙে নতুন কোনো ইতিহাস গড়তে?

আরও পড়ুন