বিশ্বকাপ ২০২৬
লাল কার্ডই যেভাবে ইংল্যান্ডের জয়ের নিয়ামক হয়ে উঠল
৫৪ মিনিটে জ্যারেল কোয়ানসাহর লাল কার্ডকে ধাক্কা মনে হলেও, থমাস টুখেলের তাৎক্ষণিক কৌশলগত বদলেই বদলে যায় ম্যাচের সমীকরণ
শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠের দিকে ছুটে যান ইংল্যান্ডের বদলি খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ। মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর উচ্ছ্বসিত থ্রি লায়ন্স শিবির। ছবি: গেটি ইমেজ
ফুটবলে লাল কার্ড মানেই সাধারণত বিপর্যয়ের ইঙ্গিত। কিন্তু মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় আজ সকালে ঠিক তার উল্টো ঘটনাই ঘটল— জ্যারেল কোয়ানসাহর লাল কার্ডই যেন ইংল্যান্ডকে জয়ের পথ দেখিয়ে দিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। বিরতির পর জুলিয়ান কিনোনেসের গোলে ব্যবধান ২-১ করে ম্যাচে ফেরে মেক্সিকো। ঠিক তখনই, ৫৪ মিনিটে জেসুস গ্যালার্দোকে বিপজ্জনক ট্যাকল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ইংলিশ ডিফেন্ডার কোয়ানসাহ— ভিএআর পর্যালোচনার পর। এতে বিশ্বকাপের ইতিহাসে লাল কার্ড দেখা চতুর্থ ইংলিশ ফুটবলার হয়ে গেলেন তিনি, ২০০৬ সালে ওয়েইন রুনির পর প্রথম।
প্রতিপক্ষের মাঠে ১০ জনের দল নিয়ে ৩৫ মিনিটেরও বেশি সময় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এখানেই কোচ থমাস টুখেলের মাস্টারস্ট্রোক— লাল কার্ডের মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে আক্রমণাত্মক উইঙ্গার বুকাও সাকাকে তুলে মাঠে নামান অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জন স্টোন্সকে। এই একটি সিদ্ধান্তেই দলের গঠন পুরোপুরি বদলে যায়— মাঝমাঠ ও রক্ষণ আরও সংহত হয়, মেক্সিকোর আক্রমণের গতি কমাতে বাড়তি একজন ডিফেন্সিভ মস্তিষ্ক যোগ হয়।
লাল কার্ডটাই আসলে ইংল্যান্ডকে বাধ্য করেছিল একটা স্পষ্ট, সংহত রক্ষণাত্মক পরিকল্পনায় ফিরতে— যা আক্রমণ-রক্ষণের ভারসাম্য নিয়ে দ্বিধায় থাকা দলের জন্য বরং সহায়ক হয়ে ওঠে। ১০ জনে খেলেও ইংল্যান্ড আক্রমণে ধার হারায়নি; বরং ৬০ মিনিটে পেনাল্টি আদায় করে নেয় দল, যা থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন— চলতি আসরে তার ষষ্ঠ গোল।

৬৯ মিনিটে রাউল হিমেনেজের পেনাল্টিতে ব্যবধান ৩-২ হলে ফের চাপ বাড়ে ইংল্যান্ডের ওপর। শেষ ৩০ মিনিট বল দখলে ৫৮-৪২ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের একের পর এক সেভে কোনো সমতা আনতে পারেনি মেক্সিকো। পুরো ম্যাচে ২৩টি শট নিয়েও লাভ হয়নি স্বাগতিকদের।
অর্থাৎ, লাল কার্ডের পরের ৩৬ মিনিট ইংল্যান্ড শুধু টিকে থাকেনি— বরং সেই সংকটই দলকে বাধ্য করেছে কৌশলগতভাবে আরও পরিণত ফুটবল খেলতে। ফলাফল, এই ম্যাচকে সিএনএন আখ্যা দিয়েছে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে।
তবে এই জয়ের মূল্যও কম নয়। বিশ্বকাপ নিয়মে সরাসরি লাল কার্ডের শাস্তি হিসেবে পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ হতে পারেন কোয়ানসাহ, যদি না ফিফা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ আগামী ১১ জুলাই মায়ামিতে নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তাকে ছাড়াই রক্ষণ সাজাতে হতে পারে টুখেলকে।
ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে উঠে আসা নরওয়ের আর্লিং হালান্ড এই আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭ গোলদাতা— কোয়ানসাহবিহীন রক্ষণের জন্য যা বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।
