EN ☀️
×

Follow Us

খেলা

তদন্ত রিপোর্টে অভিযুক্ত নন কেউ, বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ

অবৈধ পরিচালনা পরিষদের অধীনে ক্লাব ক্রিকেটে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থেকেছে ঢাকার অধিকাংশ ক্লাব।

শামীম চৌধুরী, ঢাকা

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

তদন্ত রিপোর্টে অভিযুক্ত নন কেউ, বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

গত ৬ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই।  গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে বিসিবির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, এই অভিযোগ এনে নির্বাচিত কমিটিকে অবৈধ দাবি করে ক্রিকেট ক্লাব অর্গানাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন একটার পর একটা সংবাদ সম্মেলন করেছে। অবৈধ পরিচালনা পরিষদের অধীনে ক্লাব ক্রিকেটে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থেকেছে ঢাকার অধিকাংশ ক্লাব।  

বিসিবির নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম নিয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। যে কমিটির অন্য ৪ সদস্যরা হচ্ছেন অতিরিক্ত সচিব সেলিম ফকির, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার নাসিরুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক এ টি এম সাইদুজ্জামান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আকরাম সম্রাট। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। এবং সেই সময়সীমার মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করে রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। এনএসসি চেয়ারম্যান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ওই সময়ে উপস্থিত না থাকায় এনএসসি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিবের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে তদন্ত রিপোর্ট।

৩৪ পৃষ্টার সামারি রিপোর্টে আছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ। এর সঙ্গে তদন্ত রিপোর্টের প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এবং তদন্ত কমিটির শুনানিতে যারা হাজির হয়েছেন, তাদের বক্তব্য রেকর্ড করে লিখিত আকারে জমা দেওয়া কাগজের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে হাজার পৃষ্ঠা।

বিসিবির নির্বাচন নিয়ে ওঠা অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখার শর্তজুড়ে দেওয়া হয়েছিল স্বাধীন এই কমিটিকে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় দলিল সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য গ্রহণ করে  যে রিপোর্ট দাখিল করেছে তদন্ত কমিটি, তাতে কেউ অভিযুক্ত হননি। তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়ে উপস্থিত গণমাধ্যমকে তা বলেছেন স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রধান  সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান-‘ আমরা নিরপেক্ষভাবে একটা তদন্ত করতে বসেছিলাম। যাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছিলাম, তাদের জিজ্ঞাবাস করেছি।  যা পেয়েছি সেভাবে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছি। আমরা কাউকে অভিযুক্ত করিনি, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আনিনি। যা হয়েছে, যা হয়নি, এসব রিপোর্ট দিয়েছি।’ 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতার শেষ দিকে এসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে প্রত্যক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন যুবও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার  বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচুর রিপোর্ট হয়েছে। বিসিবির নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম উদঘাটনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের পেছনে অন্যতম কারণ এটা।  বিসিবির নির্বাচনে সাবেক যুবও ক্রীড়া উপদেষ্টার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর বক্তব্য জানতে চেয়েছিল স্বাধীন তদন্ত কমিটি। তবে তদন্ত কমিটির সামনে হাজিরা দেননি তিনি। গণমাধ্যমকে তা জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান-‘উনি কিছু  বলতে চান কি না, তার জন্য ওনাকে সময় দিয়ে ডেকেছিলাম। উনাকে অভিযুক্ত করতে নয়। তবে উনি আমাদের কাছে আসেননি।’ 

বিসিবির নির্বাচন নিয়ে যা কিছু অভিযোগ, সে সব অভিযোগের তিরে বিদ্ধ হওয়ার কথা নির্বাচন কমিশনের। কারণ, তারাই বিধিসম্মত ভাবে কাউন্সিলর মনোনয়ন হয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করেছেন। তারাই বৈধ প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। বিসিবির নির্বাচন কমিশনের সব সদস্যকে ডেকেছিলেন তদন্ত কমিটি। তবে এই নির্বাচন কমিশনও তদন্ত কমিটির সামনে আসেননি। বিসিবির নির্বাচন নিয়ে আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁরা লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান- ‘সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা চেষ্টা করেছি আনতে।  ওনারা লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। একজন একজন করে নিয়েছি।’

বিসিবির বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের ত্রুটি-বিচ্যুতি তদন্ত কমিটির নজরে এসেছে। এই গঠনতন্ত্রে সংশোধনী না আনলে বিসিবির নির্বাচন হস্তক্ষেপমুক্ত করা সম্ভব নয়। তদন্ত কমিটির সামনে যারা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, তাদের মধ্যে একাধিক সংগঠক বিসিবির বিদ্যমান গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনার প্রস্তাব দিয়েছেন। স্বাধীন তদন্ত কমিটির সুপারিশমালায় গঠনতন্ত্র সংশোধনের কথা বলা আছে বলে জানিয়েছেন এই কমিটি প্রধান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান-‘আমরা কিছু সুপারিশ করেছি। আমরা চেষ্টা করেছিলাম একটা সুপারিশ দেওয়ার জন্য যে (ভবিষ্যতে) নির্বাচনটা সুন্দর করার জন্য বা  বোর্ড সংক্রান্ত আর কোনো সুপারিশ করা যায় কি না, এই সম্পর্কে আমরা কিছু গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। গঠনতন্ত্র সংশোধনের ব্যাপার আছে।’ 

বিসিবির ২৫ সদস্যের নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদ থেকে একজন একজন করে ইতোমধ্যে ৭ পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের মিছিলটা হতে পারে দীর্ঘ। সে কারণেই বিসিবির নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে  তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলোকে যুবও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়, তার দিকেই তাকিয়ে এখন সবাই।

আরও পড়ুন