ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে ক্রিকেটের ক্ষতি ৫০০ মিলিয়ন ডলার
১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের দাম ৪০ লাখ রুপি। ম্যাচ বাতিল হলে বিজ্ঞাপনী খাতে ৩০০ কোটি রুপির বেশি লোকসান হবে।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৭ এএম
ছবি: রয়টার্স
আধুনিক ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান লড়াই কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ‘আর্থিক ইঞ্জিন’।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই মহারণ বাতিল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি না হয়, তবে বিশ্ব ক্রিকেট ইকোসিস্টেম প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি রুপি) আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ম্যাচটি না হলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাবে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের আয় থেকেই প্রায় ৩০০ কোটি রুপি ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রচারকারীদের কাছে এটি একটি ‘মুকুট মণি’।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে মাত্র ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের হার ২৫ থেকে ৪০ লাখ রুপি পর্যন্ত পৌঁছায়, যা অন্য যেকোনো নক-আউট ম্যাচের চেয়েও বেশি। ইতোমধ্যে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান জিওস্টার সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় আইসিসির কাছে অর্থ ফেরতের (Rebate) দাবি তুলেছে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বিশাল আয় থেকে আইসিসি যে লভ্যাংশ পায়, তার একটি বড় অংশ সহযোগী (অ্যাসোসিয়েট) এবং ছোট পূর্ণ সদস্য দেশগুলোকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। ম্যাচ বাতিল হলে আইসিসির আয় কমবে, যার ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে জিম্বাবুয়ে বা আয়ারল্যান্ডের মতো ছোট দেশগুলো, যারা মূলত আইসিসির বার্ষিক ফান্ডের ওপর নির্ভরশীল।
পাকিস্তান সরকার এখনো ভারতের বিপক্ষে খেলার সবুজ সংকেত না দেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। আইসিসি এক বিবৃতিতে পিসিবি-কে সতর্ক করে বলেছে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। ক্রিকেটের নিরেট ভাষায় এর অর্থ হলো- এটি কেবল রাজনীতি নয়, বরং বিশাল অঙ্কের অর্থের প্রশ্ন। ম্যাচটি না হলে ভারত ও পাকিস্তান- উভয় বোর্ডই অন্তত ২০০ কোটি রুপি করে সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
আর্থিক খতিয়ানের বাইরে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবেন ক্রিকেট ভক্তরা। হাজার হাজার মানুষ এই একটি ম্যাচের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে বিমানের টিকিট, হোটেল এবং গ্যালারির টিকিট বুক করেছেন। ম্যাচ বাতিল হলে এই বিশাল বিনিয়োগের কোনো বিনিময় তারা পাবেন না।
পরিশেষে, ভারত-পাকিস্তান লড়াই এখন বিশ্ব ক্রিকেটের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মেরুদণ্ড। এই ম্যাচ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত শুধু বিশ্বকাপের সূচিতেই আঘাত হানবে না, বরং পুরো বিশ্ব ক্রিকেটে এক প্রবল অস্থিরতা ও দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সংকট তৈরি করবে।