EN ☀️
×

Follow Us

ধর্ম

গোপনে নেক আমল করার বিশেষ ফজিলত

মুফতি দিদার হুসাইন

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৮ এএম

গোপনে নেক আমল করার বিশেষ ফজিলত
অ অ

মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম হলো গোপন আমল, হতে পারে তা গোপনে দান অথবা রাতের অন্ধকারে আল্লাহকে সিজদা করা কিংবা গোপনে কারো কোনো উপকার করা ইত্যাদি। গোপন আমলের মর্যাদা কতটা বেশি হতে পারে, তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

তিনি এমন সাত শ্রেণির মানুষের কথা বলেছেন, যাদের কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাঁর বিশেষ ছায়া দান করবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তাদের মধ্যে একজন হলো সেই ব্যক্তি, যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাতে তাঁর (আল্লাহর) ভয়ে তার চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরে। আবার আরেক ব্যক্তি তিনি, যিনি এত গোপনে সদকা করেন যে তার বাঁ হাতও জানতে পারে না, তার ডান হাত কী ব্যয় করেছে। (বুখারি, হাদিস : ৬৬০)

শর্ত হলো নিয়ত পরিপূর্ণ বিশুদ্ধ হতে হবে। কারণ মহান আল্লাহ মূলত মানুষের বাহ্যিক অবয়ব কিংবা সামাজিক পরিচয়ের দিকে তাকান না; বরং তিনি বান্দার অন্তরের অবস্থা ও আমলের দিকে তাকান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। (বুখারি, হাদিস : ১)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের চেহারা ও সম্পদের দিকে তাকান না; বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে তাকান।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৪)

গোপনে করা আমল মানুষের অন্তরকে ইখলাসে পরিপূর্ণ করে। কারণ সেখানে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার সুযোগ কম থাকে। কেউ জানে না, কত রাত সে তাহাজ্জুদ পড়েছে, কত টাকা সে গোপনে দান করেছে, কতবার নীরবে আল্লাহর কাছে কেঁদেছে কিংবা কতজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সে শুধু জানে, তার রব জানেন। আর একজন মুমিনের জন্য এ জ্ঞানই যথেষ্ট।

আল্লাহ তাআলা তিন ব্যক্তিকে বিশেষভাবে ভালোবাসেন।

এর মধ্যে একজন ওই ব্যক্তি যে নেক আমলের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা পছন্দ করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন বান্দাকে ভালোবাসেন, যে তাকওয়াবান, অমুখাপেক্ষী এবং গোপনপ্রিয়।

(মুসলিম, হাদিস : ২৯৬৫)

কিছু আমল এমন আছে, যেগুলো প্রকাশ্যে করলে অন্তরে অহংকার আসার সম্ভাবনা থাকে, শয়তান মনের মধ্যে বিভিন্ন আত্মতৃপ্তিমূলক চিন্তা এনে সেই আমলকে নষ্ট করে দিতে চায়। তাই একমাত্র মহান আল্লাহকে খুশি করার জন্য গোপনে কিছু আমল থাকা উচিত, যেগুলো হবে মানুষের দৃষ্টির আড়ালে। যেখানে কোনো প্রশংসাপ্রাপ্তির আশা থাকবে না। কোনো অহংকার থাকবে না। থাকবে মহান আল্লাহর প্রেমে মগ্ন হয়ে নির্জনে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ।

দান-সদকা করার সময়ও শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে অহংকারবোধ করাতে চায়, তাই গোপন দান-সদকাই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের নিরাপদ মাধ্যম। যেখানে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া আর কোনো স্বার্থ থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যদি সদকা প্রকাশ্যে দাও, তবে তা উত্তম; আর যদি তা গোপনে করো এবং অভাবীদের দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরো উত্তম।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৭১)

তবে গোপন আমল মানেই সব নেক আমল গোপন করতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। ইসলামে কিছু ইবাদত প্রকাশ্যভাবে করা হয় এবং তা প্রকাশ্য হওয়াই স্বাভাবিক; যেমন—জামাতের নামাজ, জুমার নামাজ, হজ, আজান ইত্যাদি। আবার কাউকে ভালো কাজে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে নিজের কোনো আমল প্রকাশ করাও কখনো বৈধ হতে পারে, যদি সেখানে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য না থাকে। মূল বিষয় হলো নিয়ত।

একজন মুমিনের জীবনে এমন কিছু নেক আমল থাকা উচিত, যা শুধু সে এবং তার আল্লাহ জানেন। গোপনে কোনো দরিদ্রকে সাহায্য করা, কারো ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া, কারো প্রয়োজন পূরণ করা, নির্জনে তাহাজ্জুদ পড়া, কোরআন তিলাওয়াত করা, আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা কিংবা কাউকে না জানিয়ে তার জন্য দোয়া করা—এসব আমল মানুষের প্রশংসা থেকে দূরে রেখে বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্ককে আরো গভীর করে।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে কিছু কিছু গোপন ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরও পড়ুন