EN ☀️
×

Follow Us

ধর্ম

বদনজর থেকে বাঁচাতে শিশুর কপালে টিপ দেওয়া কি জায়েজ?

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮ এএম

বদনজর থেকে বাঁচাতে শিশুর কপালে টিপ দেওয়া কি জায়েজ?
অ অ

সন্তান আল্লাহ তাআলার অমূল্য নেয়ামত। তাই প্রত্যেক বাবা-মা চান, তাদের সন্তান সব ধরনের অকল্যাণ, বিপদ-আপদ ও মানুষের কুদৃষ্টি (বদনজর) থেকে নিরাপদ থাকুক।

আমাদের সমাজে অনেকেই এই উদ্দেশ্যে শিশুর কপালে কালো টিপ, গালে কালি বা কপালে কালো দাগ দিয়ে থাকেন। অনেকে বিশ্বাস করেন, এতে শিশুর ওপর বদনজর লাগে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বিশ্বাস ও প্রথার কোনো ভিত্তি কি কোরআন-সুন্নাহে আছে? নাকি এটি শুধুমাত্র লোকাচার ও কুসংস্কার? একজন মুসলিমের জন্য কোরআন-হাদিসের আলোকে বিষয়টি জানা অত্যন্ত জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বদনজর সত্য।

’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৭৪০)

অতএব, বদনজর থেকে বাঁচার চেষ্টা অবশ্যই করতে হবে। তবে সেই চেষ্টা হতে হবে শরিয়তসম্মত উপায়ে।

কপালে কালো টিপ দিলে কি বদনজর থেকে রক্ষা পাওয়া যায়?

পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে কোথাও শিশুর কপালে কালো টিপ, গালে কালি বা কালো দাগ দেওয়ার মাধ্যমে বদনজর থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো নির্দেশ নেই। এ ধরনের বিশ্বাসের কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই।

যদি কেউ মনে করে কালো টিপ নিজেই বদনজর প্রতিরোধ করে, তাহলে এটি ভ্রান্ত বিশ্বাস। কারণ উপকার-অপকারের একমাত্র মালিক আল্লাহ তাআলা। আল্লাহ বলেন, ‘যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো কষ্টে আক্রান্ত করেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমার কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রোধ করারও কেউ নেই।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১০৭)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো ক্ষতি পৌঁছান, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই।

আর তিনি যদি তোমার জন্য কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ প্রতিহত করারও কেউ নেই।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৭)

কালো টিপ দেওয়ার প্রথা যেভাবে চালু হয়

উপমহাদেশে শিশুদের কপালে কালো টিপ দেওয়ার রীতি বহুদিনের একটি লোকাচার। অনেক গবেষকের মতে, এটি হিন্দু সমাজের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রথার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং পরবর্তীতে লোকবিশ্বাস হিসেবে মুসলিম সমাজের একাংশেও প্রবেশ করেছে। তবে ইতিহাসের বিভিন্ন বর্ণনায় এ প্রথার উৎপত্তি নিয়ে নানা মত রয়েছে এবং এগুলোর সবকটি ঐতিহাসিকভাবে নিশ্চিত নয়।  রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪০৩১)

অতএব, যদি কোনো কাজ অন্য ধর্মের বিশেষ ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে পরিচিত হয়, তাহলে মুসলিমের উচিত তা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকা।

বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর প্রিয় নাতি হাসান ও হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য এ দোয়া পড়তেন—

 أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ

উচ্চারণ : উঈযুকুমা বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাহ মিন কুল্লি শাইত্বানিন ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।

অর্থ  : ‘আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক কুদৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩৭১)

আরও যেসব আমল সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত

বদনজর ও সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য নিয়মিত—

১. আয়াতুল কুরসি (সুরা বাকারা : ২৫৫) পাঠ করা।

২. সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস (তিন কুল) সকাল-সন্ধ্যায় এবং ঘুমের আগে পড়া।

৩. সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন যিকির ও দোয়া নিয়মিত আদায় করা।

৪. আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা (তাওয়াক্কুল) রাখা।

এসবই পবিত্র কোরআন ও সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নিরাপত্তার উপায়।

বদনজর একটি বাস্তব বিষয় এবং ইসলাম তা স্বীকার করেছে। কিন্তু বদনজর থেকে রক্ষার জন্য শিশুর কপালে কালো টিপ দেওয়া, কালি লাগানো বা এ ধরনের লোকাচারের ওপর নির্ভর করার কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই। একজন মুমিনের বিশ্বাস হওয়া উচিত—উপকার ও ক্ষতির একমাত্র মালিক আল্লাহ তাআলা। তাই কুসংস্কার, লোকবিশ্বাস কিংবা ধর্মীয় ভিত্তিহীন প্রথার পরিবর্তে কোরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা অনুযায়ী দোয়া, জিকির, আয়াতুল কুরসি, তিন কুল এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুলই একজন মুসলিমের প্রকৃত আশ্রয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্তানদের সব ধরনের বদনজর, শয়তানের অনিষ্ট, বিপদ-আপদ ও সকল অকল্যাণ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

আরও পড়ুন