ঈদুল আজহা: দেখে নিন নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও করণীয়
খোলা মাঠ বা ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করা সুন্নত, তবে প্রয়োজনে মসজিদেও এই নামাজ আদায় করা যায়
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০২:৩১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
আর মাত্র কিছু সময় পরই দেশজুড়ে শুরু হবে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে মুসলিম সম্প্রদায় দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় এবং এরপর পশু কোরবানি করবেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা এর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘তোমার রবের উদ্দেশেই নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো।’ (সুরা কাউসার, আয়াত: ২)।
খোলা মাঠ বা ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করা সুন্নত, তবে প্রয়োজনে মসজিদেও এই নামাজ আদায় করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত খোলা স্থানেই ঈদের নামাজ আদায় করতেন। নামাজের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির এই সময়ে মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদের নামাজের নিয়ত, নিয়ম ও করণীয়গুলো তুলে ধরা হলো-
ঈদের নামাজের নিয়ত
ঈদের নামাজ জামাতের সাথে আদায়ের সময় মনে মনে নিয়ত করতে হবে। আরবিতে নিয়ত করতে না জানলে নিজ ভাষায় এভাবে নিয়ত করা যা—
বাংলা নিয়ত: ‘আমি অতিরিক্ত ছয় তাকবিরসহ ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে আদায় করছি।’
(কেউ আরবিতে নিয়ত করতে চাইলে: ‘নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকআতাইনি সালাতাল ঈদি মা‘আ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াজিবান মুকতাদিয়ান বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াজ্জিহান ইলাল কা‘বাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।’)
ঈদের নামাজে সাধারণ নামাজের চেয়ে অতিরিক্ত ৬টি তাকবির দিতে হয়। নামাজ আদায়ের ধারাবাহিক নিয়মটি নিচে দেওয়া হলো-
প্রথম রাকাত:
১. ইমামের সাথে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবিরে তাহরিমা বেঁধে (হাত বেঁধে) ছানা পড়তে হবে।
২. এরপর ইমাম সাহেব অতিরিক্ত ৩টি তাকবির দেবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরের সময় হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে (হাত বাঁধা যাবে না)।
৩. তৃতীয় তাকবিরের সময় হাত উঠিয়ে সাধারণ নামাজের মতো বেঁধে নিতে হবে।
৪. এরপর ইমাম সাহেব সুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা পাঠ করবেন। মুসল্লিরা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন এবং এরপর সাধারণ নামাজের মতোই রুকু ও সেজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত সম্পন্ন হবে।
দ্বিতীয় রাকাত:
১. দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতে ইমাম সাহেব প্রথমে সুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা পাঠ করবেন।
২. সুরা পাঠ শেষে রুকুতে যাওয়ার আগে ইমাম সাহেব আবার অতিরিক্ত ৩টি তাকবির দেবেন। এবার ৩টি তাকবিরেই হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে (হাত বাঁধা যাবে না)।
৩. এরপর চতুর্থবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত না উঠিয়ে সরাসরি রুকুতে চলে যেতে হবে।
৪. এরপর সেজদা, তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন হবে।
ঈদের তাকবির ও খুতবা
ঈদের নামাজে যাওয়ার সময়, নামাজ শেষে এবং কোরবানির দিনগুলোতে এই তাকবিরটি বেশি বেশি পাঠ করা সুন্নত: ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’
নামাজ শেষ হওয়ার পর ইমাম সাহেব মিম্বারে দাঁড়িয়ে দুটি খুতবা প্রদান করবেন। জুমার নামাজের খুতবা শোনা যেমন ওয়াজিব, ঈদের নামাজের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনাও মুসল্লিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। খুতবা শেষ হওয়ার আগে ঈদগাহ ত্যাগ করা অনুচিত।
ইসলামী শরিয়তে ঈদের আনন্দ প্রকাশ ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার প্রতি বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো কাজকে দ্বীনের আবশ্যিক অংশ মনে করে বাড়াবাড়ি করলে তা বিদআতে পরিণত হতে পারে। তাই ঈদের আনন্দ উদযাপন থেকে শুরু করে কোরবানি— সবকিছুই সুন্নত ও শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে পালন করার জন্য আলেম সমাজ আহ্বান জানিয়েছেন।
(সূত্র: বুখারি, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, হেদায়া, ফতোয়ায়ে শামি)