EN ☀️
×

Follow Us

বাণিজ্য

নিত্যপণ্যের চড়া দাম

মাছে-ভাতে বাঙালির পাতে টান, বিপাকে সীমিত আয়ের মানুষ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

মাছে-ভাতে বাঙালির পাতে টান, বিপাকে সীমিত আয়ের মানুষ

রাজধানীর বাজারে মাছ ও শীতের সবজির দাম চড়া। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

‘মাছে-ভাতে বাঙালি’—এই পরিচয় বাঙালির হাজার বছরের খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে মাছ, চাল, ডাল ও সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের চড়া দামে সেই চিরচেনা খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের জন্য।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছ ও আগাম শীতকালীন সবজির দাম বেশ চড়া। একই সঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে কয়েক ধরনের ডালের দামও। তবে ডিম ও মুরগির বাজার রয়েছে প্রায় অপরিবর্তিত।

রাজধানীর বাজারগুলোতে রুই-কাতলা থেকে শুরু করে তেলাপিয়া, কৈ, পাঙাশ ও ছোট মাছ—সব ধরনের মাছ কিনতেই ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। বাজারে রুই ও কাতলা ওজনভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। চাষের তেলাপিয়া মিলছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ভরসা চাষের কৈ ও পাঙ্গাশের দামও কেজিতে ২০০ টাকার নিচে নামছে না। আর শিং মাছসহ নানা পদের ছোট মাছ কিনতে ক্রেতাদের খরচ হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা।

রাজধানীর বৃহত্তম পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজার ঘুরে চালের দামেও ভিন্নতা দেখা গেছে। বিআর-২৮ ও পাইজাম চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। মোটা চাল হিসেবে পরিচিত স্বর্ণা চালের দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। অন্যদিকে, সরু চাল নাজিরশাইল ও মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। তবে চালের বাজারে একমাত্র স্বস্তির খবর হলো, সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা কমেছে সুগন্ধি চিনিগুড়া চালের দাম।

বাজারে আগাম শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করলেও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে এর দাম। বাজারে প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে অন্তত ৫০ টাকায়। নতুন শিমের কেজি ঠেকেছে ১২০ টাকায়। আকারভেদে প্রতিটি লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। এ ছাড়া বেগুন ৫০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বরবটি ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যান্য সবজির মধ্যে পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পটল, ঢেঁড়স ও মুলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। প্রতি হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় এবং মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০ থেকে ৫৫ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা দরে।

সবজি ও মাছের পাশাপাশি নতুন করে বেড়েছে কয়েক ধরনের ডালের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ছোলা, বুট, মুগ ও মটর ডালের দাম কেজিতে ১০ টাকা করে বেড়েছে।

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ডিমের বাজারে এই সপ্তাহে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা, সাদা ডিম ১৪০...১৪৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির দামও গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।

এদিকে, ভোজ্যতেলের বাজারেও দামের খুব একটা হেরফের হয়নি। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০৪ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা এবং পাম তেল ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভোজ্যতেল বা ডিমের মতো কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও মাছ, চাল ও সবজির চড়া দামে চরম চাপে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। সীমিত আয়ের মানুষদের দৈনিক খাবারের খরচ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।

আরও পড়ুন