EN ☀️
×

Follow Us

বাণিজ্য

রোজার শুরুতেই ফলের বাজারে অস্থিরতা

সাধারণ ভোক্তাদের দাবি, রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকলে সাধারণ মানুষের ইফতারের থালা থেকে ফল পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

রোজার শুরুতেই ফলের বাজারে অস্থিরতা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতে না হতেই রাজধানীর ফলের বাজারে উত্তাপ ছড়িয়েছে। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরসহ প্রায় সব ধরনের ফলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।

সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, রোজায় বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফা লুটছেন। অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি ও আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁও ও তালতলা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফলের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মেডজুল খেজুর, যার প্রতি কেজির দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়া মরিয়ম খেজুর ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা, কালমী ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং সুকারী ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অপেক্ষাকৃত কম দামি খেজুরের কেজি ঠেকেছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়।

বাজারে ফলের দামের তালিকায় খেজুরের পরেই রয়েছে আনার। মানভেদে প্রতি কেজি আনার বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬২০ টাকায়। কালো আঙুর ৬০০ টাকা এবং সবুজ আঙুর ৪৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ কয়েক দিন আগেও সবুজ আঙুর ৩৩০ টাকায় পাওয়া যেত বলে জানান ক্রেতারা।

এছাড়া গ্রিন আপেল ও ড্রাগন ফল ৪২০ টাকা, ফুজি আপেল ও নাশপাতি ৪০০ টাকা এবং কমলা ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মালটা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।

তুলনামূলক কম দামের ফলের তালিকায় থাকা পেঁপে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, পেয়ারা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বেল ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি কলার দামও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। সবরী ও সাগর কলার ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়।

বাজারে ফল কিনতে আসা শাহনাজ পারভিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই মাসের শুরুতে গ্রিন আপেল কিনেছি ৩২০ টাকায়, আজ চাচ্ছে ৪২০ টাকা। রোজা আসলে ব্যবসায়ীরা সব সময় এমন করে। মনে হয় রোজার মাসে এসব ফল অন্য গ্রহ থেকে আমদানি করা হয়।’ অপর এক ক্রেতা আশিকুর রহমান জানান, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দামের এই বিশাল ব্যবধান সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।

দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে তালতলা মার্কেটের ফল ব্যবসায়ী আব্দুর জালিল বলেন, ‘আমরা বাদামতলী পাইকারি আড়ত থেকে ফল কিনি। সেখানে একেক সময় একেক দামে কিনতে হয়। সীমিত লাভে আমরা বিক্রি করি, কিন্তু অনেক সময় ফলের নিচে নষ্ট বের হয়, সেই লোকসানও আমাদের গুনতে হয়।’ অন্য বিক্রেতাদের মতে, কাঁচাপণ্য বিক্রি করা কঠিন এবং আমদানি সংকটের কারণেই বাজারে এই অস্থিরতা।

সাধারণ ভোক্তাদের দাবি, রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকলে সাধারণ মানুষের ইফতারের থালা থেকে ফল পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন