গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
গণতন্ত্র সুসংহত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে সরকার কাজ করছে। একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ, মানবিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই বছরের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতি রক্ষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি তৈরি হয়।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন জাতীয় অঙ্গীকার।
দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশটি বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের উন্নয়নেও এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। একই সঙ্গে তারা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতিনিধি। তাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের অনন্য প্রতীক। জাতীয় সংকট মোকাবেলায় জনগণের ঐক্য ও দেশপ্রেমের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিচয় একটাই, আমরা বাংলাদেশি; আমাদের স্বার্থ একটাই, বাংলাদেশের স্বার্থ; আমাদের অঙ্গীকার একটাই, সবার আগে বাংলাদেশ।’
দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দূতাবাস চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।