রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
ইতালির রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাসে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে রাষ্ট্রদূত রকিবুল হক জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করেন। পরে দূতাবাসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন।
সন্ধ্যায় রোমের একটি হোটেলে ইতালির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, রোমে অবস্থিত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মানে কূটনৈতিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও ওশেনিয়া বিভাগের মহাপরিচালক ও রাষ্ট্রদূত আলেসসান্দ্রা স্কিয়াভো।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশি শিশু-কিশোরেরা বাংলাদেশ ও ইতালির জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। এ সময় রোমের মেয়রের পাঠানো বার্তাও পড়ে শোনানো হয়। বার্তায় তিনি রোমের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন এবং ইতালীয় সমাজে তাদের আরও বেশি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রদূত রকিবুল হক তার বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বাংলাদেশের অগ্রগতি ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশ ও ইতালির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন এবং ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করেন।
বিশেষ অতিথি আলেসসান্দ্রা স্কিয়াভো তার বক্তব্যে বাংলাদেশ–ইতালির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বাণিজ্য, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে বৈধ উপায়ে দক্ষ কর্মী ইতালিতে পাঠানোর ক্ষেত্রেও যৌথভাবে কাজ করার কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ কর্নার’ স্থাপন করে দেশীয় শাড়ি ও হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। পরে অতিথিদের জন্য বাংলাদেশি ও ইতালীয় খাবারের আয়োজন করা হয়।