মানুষের বেড়ে ওঠার পরিবেশ প্রভাব ফেলে তার প্রেমঘটিত সম্পর্কে | daily-sun.com

মানুষের বেড়ে ওঠার পরিবেশ প্রভাব ফেলে তার প্রেমঘটিত সম্পর্কে

ডেইলি সান অনলাইন     ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:০৭ টাprinter

মানুষের বেড়ে ওঠার পরিবেশ প্রভাব ফেলে তার প্রেমঘটিত সম্পর্কে

 

মানুষ জীবনের প্রথম ভালোবাসা অনুভব করে বাবা-মায়ের ভালোবাসায়। ধীরে ধীরে মানুষ অন্যান্য প্রেম এবং ভালোবাসার সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত হয়।

একটা সময় আসে যখন বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে প্রেম হয়। এ ভালোবাসার সঙ্গে পারিবারিক ভালোবাসার পার্থক্য রয়েছে। বাবা-মা যে ভালোবাসায় সন্তানকে বড় করে তোলেন, তার প্রভাব পড়ে সঙ্গী-সঙ্গিনীর ভালোবাসায়।

 

বিশেষজ্ঞ নিল স্ট্রারাস জানান, বাবা-মায়েরা মূলত তিন উপায়ে সন্তানদের বড় করে তোলেন। এগুলোকে বলে কর্তব্যমূলক সম্পর্ক, অবহেলা এবং জালে আটকে রয়েছে এমন অনুভূতির সম্পর্ক। বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের এসব সম্পর্কের ভিত্তিতে তার প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কের কাঠামো নির্ধারিত হয়।

 

এই তিনটি পদ্ধতি কিভাবে প্রভাববিস্তার করছে দেখুন।

১. যারা কর্তব্যমূলক সম্পর্কের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন, তারা বড় হয়ে অনেকটা নিরাপদ বোধ করেন। এরা পর্যাপ্ত ভালোবাসা, পরিচর্যা এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট লিসা ফায়ারস্টোন জানান, সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে বেড়ে উঠলে সন্তানরা আত্মবিশ্বাসী, আত্মনির্ভরশীল এবং দায়িত্বশীল হয়ে ওঠেন। এ ক্ষেত্রে বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে তার বোঝাপড়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
 

২. যে সন্তান অবহেলার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় এক ধরনের আশঙ্কা বিরাজ করে। বাবা-মা তার সন্তানকে নানা উপায়ে অবহেলা করতে পারেন। সন্তানকে বড় করতে এ ক্ষেত্রে বাবা-মায়েদের কেবলমাত্র দৈহিক উপস্থিতিই স্পষ্ট থাকে। মানসিক পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত হয় সন্তানরা। সন্তানদের মনে বিরাজ করে বিষণ্নতা। দ্বিধাবিভক্তি মানসিকতা, একাকী কোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে অসহায়বোধ এবং নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এদের প্রেমঘটিত সম্পর্কে নানা টানাপড়েন চলে আসে। তারা নিজেদের আদর্শ সঙ্গী-সঙ্গিনী হিসেবে মনে করতে পারেন না।
 

৩. তৃতীয় অবস্থায় সন্তানরা বিপরীতমুখী পরিস্থিতির শিকার হন। একটা পর্যায়ে গিয়ে তারা দেখেন, বাবা-মায়ের পরিচর্যা সন্তান পায়নি। বরং সন্তানকেই নিজের ও বাবা-মায়ের পরিচর্যা করতে হচ্ছে। বাবা-মা এসব সন্তানের কাছে কেবলমাত্র পরিচয় নিয়েই বেঁচে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে সন্তান মনে করেন যে, তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে এ পরিবারের জালে আটকা পড়েছেন এবং এ জন্যে মনে কষ্ট অনুভব করেন। পরবর্তী জীবনে অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে তাদের নানা সমস্যা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা সম্পর্কে জড়াতে চান না। নিজেদের আলাদা করে বা লুকিয়ে রাখতে চান। কাছাকাছি হলে এ সম্পর্ক বাবা-মায়ের মতোই হতে পারে বলে মনে আশঙ্কা তৈরি হয়।

 

সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার
 


Top