মাছ পেতে জেলেদের সঙ্গে মহিলাদের সঙ্গমে লিপ্ত হওয়াটাই এখানকার রীতি | daily-sun.com

মাছ পেতে জেলেদের সঙ্গে মহিলাদের সঙ্গমে লিপ্ত হওয়াটাই এখানকার রীতি

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:৪৮ টাprinter

মাছ পেতে জেলেদের সঙ্গে মহিলাদের সঙ্গমে লিপ্ত হওয়াটাই এখানকার রীতি

রাচেল আটিনো ৷ বয়স ৩২ বছর ৷ পাঁচ সন্তানের জননী ৷ বছর দশেক আগে স্বামী মারা গিয়েছেন ৷ পাঁচ সন্তানকে নিয়ে কী করে সংসার চালাবেন ? এই নিয়ে শঙ্কায় পড়েছিলেন তিনি ৷ অবশেষে ‘জাবোয়া’র পথ বেছে নিতে হয়েছিল তাঁকে ৷ আর এই পেশা নিয়েই গোটা বিশ্ব জুড়ে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড় ৷

 

কী এই ‘জাবোয়া’?

 

স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত ‘জাবোয়া’শব্দের মানে হচ্ছে ‘সেক্স-ফর-ফিশ’, মাছের জন্য যৌনকার্য ৷ কেনিয়ার ভিক্টোরিয়া লেকের ধারে এই পেশা বহুদিন ধরে চলে আসছে ৷ সিয়াইয়া রাজ্যের জেলেরা সারারাত ধরে ভিক্টোরিয়া লেকে মাছ ধরার পর সকালে বিক্রি করেন ৷ তবে নারী ক্রেতাদের মধ্যে অর্থের বিনিময়ে মাছ কিনছেন, এমনটা কমই দেখা যায় ৷ বরং বেশিরভাগ নারীকে সেক্স বিনিময় করতে দেখা যায় ৷ কারণ অর্থ দিয়ে মাছ কেনার মতো সামর্থ তাঁদের থাকে না ৷

 

আটিনো একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘‘অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে নারীরা যৌনকর্ম করতে প্রস্তুত তাদেরকে ভাল মানের মাছ দেন জেলেরা ৷’’ সেখানকার মহিলাদের বক্তব্য থেকে একটি বিষয় উঠে এসেছে ৷ আর তা হল-দারিদ্র্য ৷ সেখানকার আর্থিক ব্যবস্থা এতটাই করুণ যে, খাদ্য সংস্থানের জন্য এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন মহিলারা ৷ এ ছাড়া জেলেদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠলে, ভাল মাছ পাওয়া যাব ৷ এই ধারণাটা মাথার মধ্যে কাজ করে ৷ যার জেরে জেলেদের সঙ্গে একটু অন্যরকম ‘বন্ধুত্ব’ করতে হয় নারীদের ৷ হয় মাছ ধরতে যাওয়ার আগে অথবা পরে, যৌন সম্পর্ক করতে হয় জেলেদের সঙ্গে ৷ একটু ভাল খাতিরের ফলে হয়ত কখনও কখনও অন্যদের তুলনায় ভাল এবং বেশি মাছও মিলতে পারে৷ অন্যদিকে, মাছের যোগানও বেশ কম ৷ ভিক্টোরিয়া লেকের পাড়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু দূষণ এবং অতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে মাছের সংখ্যা কমছে দ্রুতই৷

 

আটিনো থাকেন আবিম্বো গ্রামে ৷ সেখানকার অনেক নারীই জাবোয়ার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন৷ আটিনো বলেন, ‘‘জাবোয়া সবসময়ই থাকবে৷ আগের চেয়ে বরং এর ব্যবহার বেড়েছে ৷ কারণ দারিদ্র্যের কারণে মেয়েদের আর অন্য কোনও উপায় নেই৷’’

 

অবশ্য আটিনোকে এখন আর জাবোয়ায় অংশ নিতে হচ্ছে না৷ কারণ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওই এলাকার নারীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ৷ তাঁরা নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ঋণ দেন ৷ ওই অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভবান হলে নারীরা তা ফেরত দিয়ে আরও বড় অঙ্কের ঋণ পান ৷

 

‘চ্যালেঞ্জ আফ্রিকা' নামের ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছ থেকে ৫০ ডলার ঋণ পেয়েছেন আটিনো ৷ সেই অর্থ দিয়ে মাছ কিনে এখন সেগুলো শুকাচ্ছেন ৷ তারপর সেগুলো বিক্রি করবেন ৷ এ ছাড়া গ্রামের নিকটবর্তী সোনার খনিতে শ্রমিকদের জন্য রান্নার কাজও করেন আটিনো৷

 

চ্যালেঞ্জ আফ্রিকার কান্ট্রি ডিরেক্টর এডউইন ওগিলো বলেন, তাঁরা অসহায় নারীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেন ৷ সেখানে যাঁরা ভাল করেন তাঁদের ঋণ দেয়া হয় ৷ এই প্রকল্পের আরও একটি লক্ষ্য. ওই এলাকায় এইচআইভির প্রসার কমানো ৷ কারণ সিয়াইয়ার প্রতি চারজনের একজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত, যেটা এইডসের জন্য দায়ী ৷ সেক্স-ফর-ফিশের কারণে এইচআইভির প্রসার আরও বাড়ছে বলে মনে করেন ওগিলো ৷

 


Top