রিকশাচালককে মারধোরকারী সুইটির দুঃখ প্রকাশ | daily-sun.com

রিকশাচালককে মারধোরকারী সুইটির দুঃখ প্রকাশ

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৬:১৬ টাprinter

রিকশাচালককে মারধোরকারী সুইটির দুঃখ প্রকাশ

ঢাকার রাস্তায় মারমুখী ভঙ্গিতে একজন নারী এক রিকশাচালককে মারছে- এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নিজের দল আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন একজন নারী।

রিকশাচালককে মারধোরের ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে যে নারীকে দেখা গেছে, তিনি মিরপুরের ঐ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মহিলা-সম্পাদিকা সুইটি আক্তার শিনু।

ভিডিও দেখার পর সুইটিকে দলীয় কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

 

সুইটি এক-দেড় বছর আগে এই কমিটিতে যুক্ত হন। তিনি স্থানীয় একজন এমপির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক কমিটির সদস্য বলে জানান মকবুল হোসেন তালুকদার।

 

কী বলছেন সুইটি আক্তার?

যে ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে নানারকম আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে, সেটির বিষয়ে সুইটি আক্তার বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

 

ওই ঘটনা নিয়ে তিনি এখন "লজ্জিত" বলেও জানান, "আমি একদম স্যরি, যেহেতু আমার ভুল হয়ে গেছে। আমার এটা করা উচিত হয়নি। আমি স্যরি বলতেছি। "

এ ঘটনার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, "আমার ভুল হইছে।

আমার দল ঠিক করেছে। "

 

তাঁর দাবি, "দলের বাইরের কিছু লোক ভিডিও করে তাকে অপব্যবহার করছে। "

এই ভিডিও ভাইরাল হওয়া সম্পর্কে সুইটি আক্তার বলেন, "এই ইলেকশনকে কেন্দ্র করে এইগুলা করতেছে। বেশি আমাদের বিপক্ষের লোকগুলা লেখালেখি করতেছে। "

এই ঘটনার পরে ফেসবুকে বেশ কিছু ফেক আইডি তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে । কোনটিতে তাকে "বিএনপি নেত্রী" আবার কোনটিতে তাকে "আওয়ামী লীগ নেত্রী" হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

 

সামাজিক মাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যেটুকু দেখা গেছে তার আগে কিছু ঘটনা ঘটেছে তা লোকজনের নজরে আসেনি বলেও তিনি দাবি করেন।

"বাসায় আমার বাচ্চা আছে এবং চুলায় রান্না চাপানো আছে- এটা বলার পরও রিকশাচালক তার কথা না শুনে ধীরে ধীরে চালাচ্ছিলেন এবং ভাঙ্গা জায়গা দিয়ে রিকশা চালাচ্ছিলেন," বলেন সুইটি। এরপর তিনি "রিকশা থেকে পড়ে যান" বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

তবে তিনিতো চাইলে অন্য রিকশায় উঠে যেতে পারতেন-সে প্রশ্ন করা হলে সুইটি স্বীকার করেন, "এমনটা করা হয়নি। "

"এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এ নিয়ে পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে তিনি লজ্জার মুখে পড়েছেন" তিনি জানান।

"আপনাকে বলে বোঝাতে পারবো না গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে আমি কিসের মধ্যে আছি। "-বলেন সুইটি।

 

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এভাবে একজন নারীর মারমুখী আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আবার কেউ কেউ ভিডিওটি শেয়ার করে ব্যঙ্গ-রসাত্মক বক্তব্য লেখেন। একটি অনলাইন পোর্টালের "জনসম্মুখে 'পুরুষ নির্যাতন', ভিডিও ভাইরাল" এই শিরোনামের খবরও অনেকে শেয়ার করেন।

আবার একজন নারীকে নিয়ে এভাবে ট্রল করার প্রতিবাদ করে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন।

তাদের বক্তব্য- বাংলাদেশের অনেক স্থানেই যেখানে রাস্তাঘাটে রিকশা-চালক বা বাসের হেলপারদের মারতে দেখা যায়। কিন্তু এই ঘটনার ক্ষেত্রে হামলাকারীর ভূমিকায় একজন নারীকে দেখতে পেয়ে কি লোকজনের প্রতিক্রিয়া এত তীব্র? তারা এই ঘটনাকে সমর্থন না করলেও বলছেন, সেসব সময় কেন ভিডিও করা হয় না?

 

রোকসানা ইসলাম জেরিন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, "রিকশাওয়ালাকে এর আগে কেউ কোন দিন মারে নাই। এই প্রথম কেউ এভাবে মারলো। এই নারীর কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। "

সেখানে মন্তব্য করেছেন যারা তার মধ্যে ডিজি সুখন নামে একজন লিখেছেন, "অবশ্যই মারছে,আমিও মারছি। বাট এই মা... এর জাতের লোকটার কথা বলার ধরন, ফিজিক্যাল মুভমেন্ট এবং বয়স্ক/সম্মানী ব্যক্তির সাথে বাকবিতণ্ডা একটু মনোযোগ দিয়ে দেখা আবশ্যক। এন্ড ইয়েস, তার গেট-আপ এবং জেশ্চার আমাদের চোখে অবশ্যই অশোভনীয়। "

 

একই পোস্টে শ্রাবণী জলি লিখেছেন, "মারছে কিন্তু ভিডিও হয় নাই"।

ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপেও এই ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। একটি গ্রুপে কবীর খান নামে একজন সেটি শেয়ার করে লিখেছেন, "একজন রিকশাচালক হিসেবে লোকটির দোষ সে ধীরে রিক্সা চালাচ্ছিল!! যাত্রী হিসেবে মহিলার ব্যবহার!!মহিলাটাকে আইনের আওতায় নিয়ে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক। "

 

আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, "একটা ছেলে গায়ে হাত তুললে সেটা যদি সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল না হয় তাহলে একজন নারী করলে সেটা হবে কেন?"

 


 


Top