লেখা শেষ হলেই কলম থেকে গজাবে গাছ! | daily-sun.com

লেখা শেষ হলেই কলম থেকে গজাবে গাছ!

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৩ টাprinter

লেখা শেষ হলেই কলম থেকে গজাবে গাছ!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বনাঞ্চল বাড়াতে এক অভিনব পদ্ধতি বেছে নিয়েছে রাজ্যসরকার। সেখানে এমন সব কলম ও পেনসিল তৈরি হচ্ছে, যা থেকে গাছের চারা গজাবে।

দেখতে সাধারণ কলম ও পেনসিলের মতোই। কিন্তু তাদের মাথার দিকে এক স্বচ্ছ খোলসে ভরা গাছের বীজ।

 

পলাশ ও কৃষ্ণচূড়ার মতো ফুল, পেয়ারা ও পেঁপের মতো ফল এবং কাপাস ও শালের মতো গাছ, যা সহজে বড় হয়।

এ জন্য খুব বেশি যত্ন করতে হয় না। কলমের কালি ফুরিয়ে গেলে সেটি মাটিতে পুঁতে দিলেই কদিন পর বেরিয়ে আসবে চারাগাছ। -খবর ডয়চে ভেলের।

বিশেষ এক ধরনের কাগজ দিয়ে তৈরি হয় এই পেন, যা মাটির সঙ্গে মিশে যায়৷ আর পেনসিল তো ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষয় হতে থাকে।

 

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সম্প্রতি পুরুলিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে গিয়ে এমন কলম দেখে খুবই উৎসাহিত হয়ে ওঠেন।

তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তিনি এ কলম বিশ্ববাংলা স্টল থেকে বিক্রির স্থায়ী বন্দোবস্ত করে ফেলেন।

সরকারি দফতরগুলোকেও নির্দেশ দেন এ কলমের ব্যবহার বাড়াতে। প্রশাসনিক বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী নিজে এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব মলয় দে দুটি খালি কলম বীজসহ পুঁতে দিয়ে আসেন দুটি টবে।

 

জানা গেছে, রাজ্যটিতে কন্যাসন্তানদের উন্নতির জন্য শুরু হওয়া কন্যাশ্রী প্রকল্পের আওতায় এ কলম তৈরি হচ্ছে বেশ কিছু দিন ধরে।

পুরুলিয়ার শিল্পমেলায় গিয়ে প্রথম এ কলম দেখতে পান জেলার সরকারি প্রকল্পের কর্মকর্তা মৌমিতা মাহাতো।

 

তিনি জানতে পারেন, শম্পা রক্ষিত সেন নামে এক নারী কেরল গিয়ে এ অভিনব কলমটি প্রথম দেখেন।

নিজের উৎসাহে শম্পা এই কলম তৈরির কৌশল শিখে এসে নিজে এগুলো ঘরে বানিয়ে মেলায় বিক্রি করছিলেন তখন।

মৌমিতা মাহাতো বিষয়টি জানান পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর মহকুমার প্রশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্করকে। তারই উদ্যোগে জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে দিয়ে এ ধরনের কলম ও পেনসিল তৈরির প্রকল্প শুরু হয়।

 


Top