গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা টেলি সামাদ | daily-sun.com

গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা টেলি সামাদ

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২১:০৩ টাprinter

গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা টেলি সামাদ

জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিচ্ছেন। আজ সোমবার টেলি সামাদের মেয়ে সোহেলা সামাদ কাকলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

কাকলী জানান, বুকে ইনফেকশন নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি তিনি। ডায়াবেটিস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রতীক দেওয়ানের তত্বাবধানে এ অভিনেতার চিকিৎসা চলছে। ডাক্তারের বরাত দিয়ে তার সোহেলা সামাদ জানান, বুকে ইনফেনশন ছাড়াও তার রক্তের প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তিন ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে ইতোমধ্যে।

 

 কাকলী জানান, বেশ কয়েক দিন ধরেই খাবারের প্রতি অনীহা দেখা দেয় টেলি সামাদের। এতে তিনি ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

চিকিৎসকরা টেলি সামাদের সুস্থতার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তার মেয়ে জানান, টেলি সামাদের বুকে ইনফেকশন আছে। এ ছাড়া রক্তের প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে।

টেলি সামাদের সুস্থতার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।

 

কাকলী জানান, গত শুক্রবার তার বাবাকে নিবীর পরিচর্যায় নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে তার শরীরে তিন ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। ডায়াবেটিস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. প্রতীক দেওয়ানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন টেলি সামাদ।

 

টেলি সামাদকে এর আগে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়। এর পর ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন। কিন্তু দেশে আসার পর অক্টোবরে ও নভেম্বরে দুই দফা এই স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে।

 

গত বছরের ২০ অক্টোবর জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল তার বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে।

 

টেলিসামাদ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অত্যন্ত শক্তিশালী ও জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা। জন্ম ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারী, মুন্সীগঞ্জের নয়াগাঁও এলাকায়। ‘১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ দিয়ে তার চলচ্চিত্রে আগমন হয়। চার দশকে প্রায় ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

 

সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বেড়ে ওঠা টেলি সামাদ বড়ভাই বিখ্যাত চারুশিল্পী আব্দুল হাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়।

 

ঢাকাই চলচ্চিত্রের অত্যন্ত শক্তিশালী ও জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ ১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। চার দশকে প্রায় ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

 

কমেডিয়ান হিসেবে বেশিরভাগ দর্শক টেলি সামাদকে চিনলেও প্রায় ৪০টির বেশি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন তিনি, আছে অ্যালবামও।

 

অভিনয়ে তার আবির্ভাব সত্তরের দশকে। অল্প সময়েই অভিনয়গুণে পোক্ত করেন নিজের অবস্থান। পরে আশির দশকের গোড়ার দিকে সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলীর অনুপ্রেরণায় গানের জগতে যাত্রা করেন তিনি। আগে থেকেই টুকটাক গান গাওয়ার অভ্যাস ছিল, অবসরে টুংটাং গিটারে সুর তুলতেন।

 

'পাঙ্কটেলি' শিরোনামে একটি অ্যালবামও প্রকাশ করে ফেলেন তিনি। সেটিই ছিল তার প্রথম ও শেষ অ্যালবাম।

 

টেলি সামাদ নজরুল ইসলামের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালের দিকে ‘কার বৌ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে এই অঙ্গনে পা রাখেন এই অভিনেতা। তবে তিনি দর্শকদের কাছে যে ছবিটির মাধ্যমে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন সেটি হলো ‘পায়ে চলার পথ’। এরপর অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের বাইরে ৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে তিনি গানও গেয়েছেন। বিটিভির ক্যামেরাম্যান মোস্তফা মামুন আবদুস সামাদ বাদ দিয়ে টেলিসামাদ নামটা দিয়েছিলেন। সেই থেকেই তাকে সবাই টেলিসামাদ নামেই চেনে।

 

৭০ দশক থেকে তাকে পর্দায় দেখেছেন দর্শকরা। এ যাবৎ অসংখ্য চলচ্চিত্র-নাটকে নানা ধরনের চরিত্রে তার দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে দারুণভাবে। নিজের অভিনয় শৈলি দিয়ে দর্শকদের বিনোদন ও হাসিতে সারাক্ষন মাতিয়ে রাখতেন টেলিসামাদ। একসময় কমেডিয়ান বললেই চলে আসত তাঁর নাম। সমানতালে অভিনয় করেছেন সিনেমায়, টেলিভিশনে। পেয়েছেন তুমুল জনপ্রিয়তা। সবাইকে হাসিয়েছেন যিনি, জীবন সায়াহ্নে এসে অভাব- জরা- ক্লান্তি আর একাকীত্ব মিলিয়ে দারুন অবসাদগ্রস্থ সেই কৌতুক সম্রাটের মুখেই নিভে গেছে হাঁসি। ২০১৫ সালে তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি মুক্তি পায় ‘জিরো ডিগ্রী’। বর্তমানে এই অভিনেতা অসুস্থ হয়ে ঘরে শুয়ে-বসে দিন কাটাচ্ছেন।

 


Top