অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দশ বছর পর টেস্ট জিতল ভারত | daily-sun.com

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দশ বছর পর টেস্ট জিতল ভারত

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৯:০৬ টাprinter

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দশ বছর পর  টেস্ট জিতল ভারত

উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান রিশভ প্যান্টের বিশ্বরেকর্ডের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১০ বছর পর টেস্টে জয়ের মুখ দেখলো ভারত। অ্যাডিলেডে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট ম্যাচটিতে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ক্যাচের বিশ্বরেকর্ড হয়েছে।

পুরো টেস্টে দু’দল ৩৫টি ক্যাচ নিয়েছে, যা বিশ্বরেকর্ড। এর আগে এক টেস্টে সর্বোচ্চ ৩৪ ক্যাচের রেকর্ডটি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে। চলতি বছরের মার্চে এক টেস্টে ৩৪টি ক্যাচ নিয়েছিলো অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

 

অ্যাডিলেডে ৩৫টি মধ্যে দু’দলের দ্বিতীয় ইনিংসেই ২০টি ক্যাচ নিয়েছে ফিল্ডাররা। অর্থাৎ ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সব ব্যাটসম্যানই ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন।

 

শুরুটা দেখে একবারও মনে হয়নি এই টেস্ট ম্যাচ এবাবে গিয়ে শেষ হতে পারে। কিন্তু যত দিন এগিয়েছে ক্রমশ ম্যাচের চরিত্র বদলাতে শুরু করেছে। ম্যাচ পাঁচ দিন তো গড়িয়েছেই সঙ্গে শেষ দিনে তা গিয়ে পৌঁছেছে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে। যদিও শেষ হাসি হেসেছে ভারতই।

অস্ট্রেলিয়ার বুকে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে নেমে শুরুটা দারুণভাবে করে দিল বিরাট কোহলির দল। আগেই অধিনায়ক বলে দিয়েছিলেন, আগে যে ভুলগুলো হয়েছিল সেগুলো আর তিনি করবেন না। হয়তো সেই ভুল শুধরেই শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে ধাক্কা দিতে পারল ভারত। ১০ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে ৩১ রানে হারিয়ে তাদেরই ঘরের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জিতল ভারত।

 

অ্যাডিলেড ওভালে চতুর্থ দিন যেখানে থেমেছিল অস্ট্রেলিয়া মনেই হয়েছিল জয়ের রান তুলে নেওয়া তাদের জন্য সহজ হবে না। ১০৪/৪এ তখন ৩১ রানে মার্শ ও ১১ রানে হেড ব্যাট করছিলেন। শেষ সকালের শুরুটা অবশ্য ভাল হয়নি। হেড আর মাত্র তিন রানই যোগ করতে পেরেছিলেন। এর পর মার্শের সঙ্গে নেমে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করেন অধিনায়ক টিম পাইন।

 

মার্শ আউট হন ৬০ রানে। টিম পাইনের রান ৪১। এর পর কামিন্স ২৮, স্টার্ক ২৮ রানে ফিরে গেলে ভারতের আবার আশা জেগে ওঠে। নাথান লিয়ঁ দীর্ঘ সময় লড়াই চালিয়ে যান।

 

টস জিতে ব্যাট হাতে শুরুটা করেছিল ভারতই। কিন্তু একমাত্র চেতেশ্বর পূজারার ১২৩ রানের ইনিংস ছাড়া সকলেই হতাশ করেছিলেন। কেউ বড় রানের ইনিংস খেলতে পারেননি। যার ফলে ২৫০ রানেই শেষ হয়ে গিয়েছিল ভারতের প্রথম ইনিংস।

 

এর পর জবাবে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে ধাক্কা দিতে শুরু করেন ভারতের বোলাররা। সেখানেও ব্যাট হাতে লড়াই করার সুযোগ পান একজনই। তিনি ত্রাভিস হেড। ৭২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এটাই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ব্যাক্তিগত সর্বোচ্চ। কিন্তু ভারতীয় বোলারদের দাপটে ২৩৫ রানেই অল-আউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ১৫ রানে পিছিয়ে থাকে তারা।

 

ভারতের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন যশপ্রীত বুমরা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। দু'টি করে উইকেট নেন ইশান্ত শর্মা ও মহম্মদ শামি। এগিয়ে থেকেই দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিল ভারত। তততক্ষণে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের হারানো আত্মবিশ্বার ফিরে পেয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। জাঁকিয়ে বসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে টেস্ট সিরিজ জিতে ইতিহাস তৈরি করার স্বপ্ন। সে লক্ষ্যেই শুরু হয় দ্বিতীয় ইনিংসের লড়াই।

 

দ্বিতীয় ইনিংসেও ভারতকে টানেন সেই চেতেশ্বর পূজারা। লোকেশ রাহুল ৪৪ রানের ইনিংস খেলার পর ৭১ রানের ইনিংস খেলেন পূজারা। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত অঝিঙ্ক রাহানের। তাঁর ব্যাট থেকেও আসে ৭০ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত যখন থামে তখন প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার থেকে অনেকটাই এগিয়েছে। ৩০৭ রানে শেষ হয় ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস। ছয় উইকেট নিয়ে ভারতকে চাপে ফেলে দেন নাথান লিয়ঁ। তিন উইকেট নেন স্টার্ক।

 

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু দ্বিতীয় ইনিংসেও ভাল করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। তাও তার মধ্যেই প্রায় ভারতের দেওয়া লক্ষ্যের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল তারা। পঞ্চম দিন দারুণ লড়াই দিতে শুরু করেছিল। কিন্তু ভারতীয় বোলাররা আবারতাদের সেই লড়াই থামালেন তাঁদের দক্ষতা দিয়েই। ২৯১ রানে শেষ হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস।   ৩১ রানে প্রথম টেস্ট জিতে নিল ভারত।

 

দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি করে উইকেট নিলেন বুমরা, অশ্বিন ও শামি। ইশান্তের দখলে এল একটি উইকেট।

 

চার ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয়টি আগামী শুক্রবার পার্থে শুরু হবে।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ভারত ১ম ইনিংস-২৫০ (পূজারা ১২৩; হেজেলউড ৩/৫২, কামিন্স ২/৪৯, স্টার্ক ২/৬৩, লায়ন ২/৮৩) দ্বিতীয় ইনিংস- ৩০৭ (পূজারা ৭১, রাহানে ৭০; লায়ন ৬/১২২, স্টার্ক ৩/৪০)

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস- ২৩৫ (হেড ৭২, হ্যান্ডসকম্ব ৩৪; বুমরা ৩/৪৭, অশ্বিন ৩/৫৭, শর্মা ২/৪৭, সামি ২/৫৮)

দ্বিতীয় ইনিংস- ২৯১ (মার্শ ৬০; সামি ৩/৬৫, অশ্বিন ৩/৯২, বুমরা ৩/৬৮)

 


Top