প্রার্থীতা ফিরে পেলেন টুকু-দুলু | daily-sun.com

প্রার্থীতা ফিরে পেলেন টুকু-দুলু

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৪:৪৮ টাprinter

প্রার্থীতা ফিরে পেলেন টুকু-দুলু

- ইকবাল মাহমুদ টুকু ও রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু

 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ টুকু ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মনোনয়নপত্র বাতিলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের অংশ নিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবীরা।


নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এই দু’জনের করা আপিলের শুনানি শেষে সোমবার (১০ ডিসেম্বর) এই রায় দেয়া হয়েছে।


এর আগে রবিবার সকালে নিজ নিজ আসনে মনোনয়ন ফিরে পেতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তারা পৃথকভাবে রিট করেন।


এর আগে ৬ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন নাটোর-২ আসনে দুলু ও সিরাজগঞ্জের একটি আসনে টুকুর মনোনয়ন বাতিল করেন। আপিলে ইসির যুক্তি ছিল ফৌজদারি মামলায় দণ্ড থাকায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হল।


এর আগে ২ ডিসেম্বর নিজ এলাকার রিটার্নিং অফিসার তাদের মনোনয়ন বাতিল করেন।


তবে দুলুর আইনজীবী জানান, যে মামলায় তার মক্কেলের দণ্ডের কথা বলা হয়েছে, সে মামলায় তার দণ্ড ও সাজা স্থগিত রয়েছে। তিনি বলেন, নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে তার করা আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই দণ্ড-সাজা স্থগিত করা হয়। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগেও যায়নি।


ওই আইনজীবী আরও জানান, এমনকি যে মামলায় তার সাজা হয়েছে, তা বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের দণ্ডবিধিতে হয়েছে।

এটি নৈতিক স্খলনের মধ্যে পড়ে না। এসব যুক্তিতে রিটটি করা হয়েছে।

 

এদিকে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রার্থীতা বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ৩১ প্রার্থী। তাদের মধ্যে গতকাল রবিবারই প্রার্থীতা ফিরে পান ১১জন।  


তারা হলেন- নীলফামারী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার, দিনাজপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দিনাজপুর সদরের মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি পৌর মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী, নওগাঁ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী নওগাঁ পৌরসভার মেয়র নাজমুল হক, পঞ্চগড়-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী পঞ্চগড় সদরের মেয়র তৌহিদুল ইসলাম, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের বিএনপির প্রার্থী শাহজাহানপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাদল সরকার, বগুড়া-৩ আসনে বিএনপির আব্দুল মুহিত তালুকদার, কুড়িগ্রাম-৪ (রাজিবপুর, রৌমারী ও চিলমারী উপজেলা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী আশরাফ সিদ্দিকী, নওগাঁ-৪ আসনে স্বতস্ত্র প্রার্থী আফজাল হোসেন এবং একেএম মাহফুজুর রহমান (আসনের তথ্য পাওয়া যায়নি)।


সেইসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তিনটি রিটসহ মোট ১৪টি রিট আজ সোমবার (১০ ডিসেম্বর) শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। এ ছাড়াও শুনানি নিয়ে ৪ জন প্রার্থীর রিট খারিজ, দুইজনের আবেদন তালিকা থেকে বাদ এবং একজনের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আদালত।


নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়া প্রার্থীদের পৃথক পৃথক রিটের শুনানি নিয়ে রবিবার হাইকোর্টের বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো.সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দুই প্রার্থীর মনোনয়ন গ্রহণের নির্দেশ দেন।


অপরদিকে হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আরও ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন।


এ ছাড়া শুনানি শেষে আরও দুইজনের বিষয়ে আদেশের জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য করেন আদালত। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও বিএনপি নেতা  আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।


তফসিল অনুযায়ী, গত ২৮ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মোট তিন হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে জমা পড়ে মোট দুই হাজার ৫৬৭টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৪৯৮টি মনোনয়নপত্র।


গত ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এগুলোর মধ্যে বিএনপির ১৪১টি, আ’লীগের ৩টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৮টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ৩৮৪টি।


এদের মধ্যে প্রার্থিতা ফিরে পেতে গত সোম থেকে বুধবার (৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত তিন দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৫৪৩টি আপিল জমা পড়েছে। বাকি ২৪৩ জন আপিল করেননি।


প্রথম দিন ৩ ডিসেম্বর ৮৪, দ্বিতীয় দিন ৪ ডিসেম্বর ২৩৭ এবং শেষ দিন বুধবার ২২২টি আপিল জমা পড়ে।


৬ ডিসেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর তিনদিনের শুনানি শেষে ২৪৩ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছন। আর ৩০০ জনের আবেদন না মঞ্জুর হয়েছে। এতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৫২২ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ১৮৫ জন। আপিল আবেদনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। এরপরেই আছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থান।


বিএনপির অন্তত ৭৮ জন তাদের প্রার্থিতা ফেরত পেলেও  বিএনপি প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পাননি।


উল্লেখ্য, ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ওই তফসিল অনুযায়ী, ২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন নির্ধারিত হয়। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আবেদনের ভিত্তিতে ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পুনঃতফসিল অনুযায়ী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর এবং ভোট গ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়।


আজ প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ চলছে। প্রতীক বরাদ্দ হলেই প্রচার উৎসবে নামতে পারবেন প্রার্থীরা। প্রচারের সময় যাতে আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন না হয়, সে জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

 


Top