খালেদার প্রার্থীতা নিয়ে ফয়সালা হতে পারে আজ | daily-sun.com

খালেদার প্রার্থীতা নিয়ে ফয়সালা হতে পারে আজ

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১১:০৭ টাprinter

খালেদার প্রার্থীতা নিয়ে ফয়সালা হতে পারে আজ

 

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রার্থীতা বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার করা রিটের শুনানির জন্য সোমবার (১০ ডিসেম্বর) দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। রবিবার (৯ ডিসেম্বর) সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করলে এ আদেশ দেন।

 


খালেদা জিয়ার রিট আবেদনের বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন তার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী। এ সময় এ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, নওশাদ জমির ও অ্যাডভোকেট ফারুক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে ৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিলের শুনানির পর সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ এবং ফেনী-১ আসনের সবক’টির মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন এ সিদ্ধান্ত দেন। শুনানিতে প্রার্থিতা বহালের পক্ষে মত দেন মাহবুব তালুকদার। এর বিপক্ষে মত দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ বাকি ৪ জন।


পরে প্রার্থিতা বাতিল করা রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার পক্ষে রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন।


খালেদা জিয়া বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ এবং ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা তার মনোনয়নগুলো বাতিল করে দেন।


তফসিল অনুযায়ী, গত ২৮ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মোট তিন হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে জমা পড়ে মোট দুই হাজার ৫৬৭টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৪৯৮টি মনোনয়নপত্র।


গত ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এগুলোর মধ্যে বিএনপির ১৪১টি, আ’লীগের ৩টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৮টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ৩৮৪টি।


এদের মধ্যে প্রার্থিতা ফিরে পেতে গত সোম থেকে বুধবার (৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত তিন দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৫৪৩টি আপিল জমা পড়েছে। বাকি ২৪৩ জন আপিল করেননি।


প্রথম দিন ৩ ডিসেম্বর ৮৪, দ্বিতীয় দিন ৪ ডিসেম্বর ২৩৭ এবং শেষ দিন বুধবার ২২২টি আপিল জমা পড়ে।


৬ ডিসেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর তিনদিনের শুনানি শেষে ২৪৩ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছন। আর ৩০০ জনের আবেদন না মঞ্জুর হয়েছে। এতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৫২২ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ১৮৫ জন। আপিল আবেদনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। এরপরেই আছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থান।


বিএনপির অন্তত ৭৮ জন তাদের প্রার্থিতা ফেরত পেলেও  বিএনপি প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পাননি।

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুদকের দায়ের করা দুই মামলায় ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। আপিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি।


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়। সেখান থেকেই গত ৬ অক্টোবর চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয়। টানা এক মাস ২ দিন বিএসএমএমইউয়ে চিকিৎসা নেয়ার পর ৮ নভেম্বর তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

 

 


Top