আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতে পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠক বিএনপির! | daily-sun.com

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতে পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠক বিএনপির!

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:২৮ টাprinter

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতে পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠক বিএনপির!

একে ঘর অগোছালো। এরপর জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে ল্যাজেগোবরে অবস্থা বাংলাদেশের প্রাক্তন শাসকদল তথা বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপির।

এরমধ্যে আরও একটি বড় তোপের মুখে পড়ল দলটি। অভিযোগ ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করতে পাকিস্তান দূতাবাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির। পাকিস্তান দূতাবাসের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ এনে শাসকদল আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আরও বলেছেন, মনোনয়ন বাণিজ্য এবং বিএনপি অফিসে নিজেদের মধ্যে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করবে। নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও দলের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সংকট দেখা দিয়েছে উল্লেখ করেন লিগ নেতা। নির্বাচন ঘিরে দাবি-দাওয়া তুলে ধরার ক্ষেত্রে গণফোরামের কামাল হোসেন সামনে থাকলেও ভোটের লড়াইয়ে পার পেতে জামাতে ইসলামির নেতাদের ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখল প্রধান বিরোধী দল।

 

আওয়ামি লিগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে। এ সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হবে না, যদি বিএনপি বিঘ্নিত না করে। বিএনপি যদি তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সরে না দাঁড়ায়, তবে নির্বাচন নিয়ে কোনও ধরনের সংকট নেই। কিন্তু বিএনপি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের ঘরেই এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে।

দলের মনোনয়নবঞ্চিতরা গুলশান ও পল্টন অফিসে বারবার হামলা করছে। এই অবস্থায় তারা যদি পরিবেশ নেই বলে সরে দাঁড়ায়, তাহলে আমাদের কী করার আছে? দুর্নীতি মামলায় বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাকে সরকার সাজা দেয়নি। এতিমের টাকা আত্মসাত করার অপরাধে আদালত তাকে সাজা দিয়েছে। ১০ বছর তিনি এ মামলা নিয়ে অনেক কানামাছি খেলেছেন। অবশেষে আদালত তাকে সাজা দিয়েছে। কাদের বলেন, সরকার আইন লঙ্ঘন করে তো খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে না। তিনি যদি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চান, রাষ্ট্রপতি যদি ক্ষমা করেন, তাহলেই তিনি সুযোগ পেতে পারেন।

 

রবিবার দুপুরে আওয়ামি লিগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় ধানমণ্ডিতে সাংবাদিক সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে দূতাবাসে যাতায়াত থাকতে পারে। তবে বিজয়ের এই মাসে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক জনমনে প্রশ্নের সঞ্চার করে। একদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে গোপন বৈঠক, অন্যদিকে পাকিস্তানি দূতাবাসে মির্জা ফখরুলের সাক্ষাৎ ও গোপন বৈঠক ষড়যন্ত্রের আভাস দেয়। দুই বৈঠক একই সূত্রে গাঁথা। সে জায়গা থেকে আমরা মনে করি, এই সাক্ষাৎ আসন্ন নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনীতিকে বিনষ্ট করার দুরভিসন্ধি রয়েছে। ’ গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, বিএনপি নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে কী ধরনের ব্যবসা করেছে। একটি রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিয়ে এ ধরনের ব্যবসা হতে পারে না। যা থেকে বোঝা যায়, বিএনপি কোনও রাজনৈতিক দল না বরং একটি কর্পোরেট সংস্থা। ’ মনোনয়নবঞ্চিতদের বিক্ষোভে তৃতীয় দিনের মতো উত্তাল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়। রবিবারও বিক্ষোভ করে বঞ্চিতদের কর্মী-সমর্থকরা। তারা ‘অবৈধ মনোনয়ন মানি না, মানব না’বলে স্লোগানও দেয়।

 

সূত্র: কলকাতার প্রত্রিকা, সংবাদ প্রতিদিন


Top