আ’লীগ ২৭২টি আসনে নৌকার প্রার্থী, বিএনপি ২৯৮ টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী | daily-sun.com

আ’লীগ ২৭২টি আসনে নৌকার প্রার্থী, বিএনপি ২৯৮ টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী

ডেইলি সান অনলাইন     ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৯ টাprinter

আ’লীগ ২৭২টি আসনে নৌকার প্রার্থী, বিএনপি ২৯৮ টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৭২টি আসনের প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে ও বিএনপি ২৯৮ টি আসনের প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়বেন।

 

জানা যায়, আওয়ামী লীগ লড়বে ২৫৮টি আসনে।

এ হিসেবে ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা ভোটের জন্য পেয়েছে ৪২টি আসন। তবে আওয়ামী লীগ আর ১৪ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোর প্রার্থীদের মিলিয়ে মোট ২৭২টি আসনে নৌকা মার্কায় ভোট হবে।

 

এদিকে মাত্র দু’টি আসনে জাতীয় পার্টির (জেপি) বাইসাইকেল প্রতীকে প্রার্থীরা অংশ নেবেন। অবশিষ্ট ২৬টি আসনে নৌকা প্রতীকে কোনো প্রার্থী থাকবে না। এ ২৬টি আসনে লাঙ্গল প্রতীকে লড়বেন মহাজোটের প্রার্থীরা।

 

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিন রোববার চূড়ান্ত প্রার্থী ও জোটের প্রতীক ব্যবহারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে এমনটিই জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

 

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে দেওয়া পত্রে প্রার্থীদের একটি তালিকা জুড়ে দিয়ে তাদের জন্য ‘নৌকা’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বলা হয়।

 

পত্রে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের ২৫৮ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ৫ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের ৩ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ২ জন, বাংলাদেশ জাসদের ১ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের ৩ জন মিলিয়ে মোট ২৭২ প্রার্থী নৌকা মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর জাতীয় পার্টি-জেপির দুই প্রার্থী ভোট করবেন বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে।

 

শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত পত্রে মহাজোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে,

 

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ঠাকুরগাঁও-৩: ইয়াসিন আলী

 

রাজশাহী-২: ফজলে হোসেন বাদশা

 

সাতক্ষীরা-১: অ্যাডভোকেট মোস্তফা লুৎফুল্লাহ

 

বরিশাল-৩: টিপু সুলতান ও

 

ঢাকা-৮ আসনে রাশেদ খান মেননকে নৌকা মার্কা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

 

জাসদের প্রার্থী বগুড়া-৪:

একেএম রেজাউল করিম তানসেন

 

কুষ্টিয়া-২: আসনে হাসানুল হক ইনু

 

ফেনী-১: আসনে শিরীন আখতার

 

বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী লক্ষ্মীপুর-১: আনোয়ার হোসেন খান

 

চট্টগ্রাম-২: সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী

 

বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী চট্টগ্রাম-৮: মইনউদ্দীন খান বাদল

 

বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রার্থী মুন্সিগঞ্জ-১: মাহী বি চৌধুরী

 

মৌলভীবাজার-২: এম এম শাহীন ও

 

লক্ষীপুর-৪: আব্দুল মান্নানকে নৌকা প্রতীক দিতে বলা হয়েছে।

 

আর জাতীয় পার্টি-জেপি’র প্রার্থী পিরোজপুর-২ আসনে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মো. রুহুল আমিনকে বাই সাইকেল প্রতীক দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে পত্রে।

 

এদিকে নির্বাচন কমিশনকে জাতীয় পার্টি জানিয়েছে, তাদের দলের প্রার্থীরা ২৯টি আসনে এককভাবে লড়বে।

 

ইসিতে আওয়ামী লীগের চিঠি অনুযায়ী, ২৬টি আসনে জাতীয় পার্টির কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী মহাজোট থেকে থাকবে না। যদিও জাতীয় পার্টি মোট ১৭৩টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। আর সবগুলো আসনেই দলটির প্রার্থীরা লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করবে।

 

 

অপরদিকে, আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোট এবং বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বিএনপি নিজেদের জন্য ২৪২টি আসন রেখে শরিকদলগুলোর জন্য বাকি আসন ছেড়ে দিয়েছে।

 

বাকি দুটি আসনের প্রার্থী ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। তারা হলেন ২০ দলীয় জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ। তিনি নিজ দলের ‘ছাতা’ প্রতীক নিয়ে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে লড়বেন। এছাড়া কক্সবাজার-২ ধানের শীষের কোনও প্রার্থী নেই। এখানে জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশন মনোনীত প্রতীকে ভোট করবেন। তাকেই ২গ দল সমর্থন দিচ্ছে।

 

সোমবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়।

 

চিঠিতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোট এবং বিএনপি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করবে। চিঠির সঙ্গে ২৯৮ জন প্রার্থীর তালিকা (যারা ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন) দেয়া হয়।

 

তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের ‘ধানের শীষ’ প্রতীক প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানানো হয়।

 

বিএনপির জোটসঙ্গীরা সবাই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও এলডিপির অলি আহমদ নিজ দলের প্রতীক ‘ছাতা’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

 

যারা পেলেন জোটের চূড়ান্ত মনোনয়ন:

 

গণফোরাম: সুব্রত চৌধুরী (ঢাকা-৬), মোস্তফা মহসিন মন্টু (ঢাকা-৭),  এএইচএম খালেকুজ্জামান (ময়মনসিংহ-৮), রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১), অধ্যাপক আবু সাঈয়িদ (পাবনা-১), আমসা আমিন (কুড়িগ্রাম-২), সুলতান মো. মনুসর আহমেদ (মৌলভীবাজার-২)।

 

জেএসডি: আ স ম আবদুর রব (লক্ষ্মীপুর-৪), আবদুল মালেক রতন (কুমিল্লা-৪), শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন (ঢাকা-১৮) ও সাইফুল ইসলাম (কিশোরগঞ্জ-৩)।

 

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ: কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল-৮), লিয়াকত আলী (টাঙ্গাইল-৪), ইকবাল সিদ্দিকী (গাজীপুর-৩) ও মনজুরুল ইসলাম (নাটোর-১)।

 

নাগরিক ঐক্য: মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-২), এসএম আকরাম (নারায়ণগঞ্জ-৫), শাহ রহমত উল্লাহ (রংপুর-১), নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর (বরিশাল-৪)।

 

প্রথমে মোফাখারুল ইসলামকে (রংপুর-৫) ধানের শীষের চিঠি দেওয়া হলেওচূড়ান্তভাবে সংশোধিত চিঠি পেয়েছেন জামায়াতের গোলাম রাব্বানী।

 

২০ দলীয় জোট:

 

বিজেপি: আন্দালিব রহমান পার্থ (ঢাকা-১৭)।

 

এনপিপি: ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (নড়াইল-২)।

 

পিপিবি: রিটা রহমান (রংপুর-৩)।

 

কল্যাণ পার্টি: সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম (চট্টগ্রাম-৫)।

 

এলডিপি: অলি আহমেদ (চট্টগ্রাম-১৪), মো. নুরুল আলম (চট্টগ্রাম–৭), রেদোয়ান আহমেদ (কুমিল্লা-৭), সাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১) ও সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ (ময়মনসিংহ-১০)।

 

খেলাফত মজলিশ: আহমেদ আবদুল কাদের (হবিগঞ্জ-৪) ও আবদুল বাসিদ আজাদ (হবিগঞ্জ-২)।

 

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম: জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর শাহিনুর পাশা (সুনামগঞ্জ-৩), মনির হোসেন (নারায়ণগঞ্জ-৪), মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস (যশোর-৫)।

 

জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর): টিআইএম ফজলে রাব্বী (গাইবান্ধা-৩) ও আহসান হাবিব লিংকন (কুষ্টিয়া-২)।

 

লেবার পার্টি: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান (পিরোজপুর-২)

 

জামায়াত ইসলামী: ডা. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫), রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪), মিয়া গোলাম পারোয়ার (খুলনা-৫), আবুল কালাম আজাদ (খুলনা-৬), সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (কুমিল্লা-১১), শামসুল ইসলাম (চট্টগ্রাম-১৫), হামিদুর রহমান আযাদ (কক্সাবাজার-২), আবদুল হাকিম (ঠাকুরগাঁও-২), আবু হানিফ (দিনাজপুর-১), আনোয়ারুল ইসলাম (দিনাজপুর-৬), মনিরুজ্জামান মন্টু (নীলফামারী-২), আজিজুল ইসলাম (নীলফামারী-৩), মাজেদুর রহমান (গাইবান্ধা-১), মুহাদ্দিস আবদুল খালেক (সাতক্ষীরা-২), গাজী নজরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা-৪), শামীম সাঈদী (পিরোজপুর-১), আবদুল ওয়াদুদ (বাগেরহাট-৩), আবদুল আলীম (বাগেরহাট-৪), আবু সাঈদ মো. সাহাদাত হোসেইন (যশোর-২), মতিউর রহমান (ঝিনাইদহ-৩), ইকবাল হোসেইন (পাবনা-৫) ও গোলাম রাব্বানী (রংপুর-৫)।

 

জোটের বাইরেও দুই আসনে নির্বাচন করবে জামায়াত। জামায়াতের যুদ্ধাপরাধের মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন পাবনা-১ আসনে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে নুরুল ইসলাম বুলবুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

 

পাবনা–১ আসনে জোট থেকে ধানের শীষে নির্বাচন করছেন জাতীয় ঐক্যফন্টের শরিক গণফোরামে সদ্য যোগ দেওয়া আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈয়িদ।

 

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনে ২৫৯টি আসনে এককভাবে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয় বিএনপি। ওই নির্বাচনে জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীসহ শরিকদের ৪১টি আসন ছেড়ে দিয়েছিলো দলটি।

 

উল্লেখ্য, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে সোমবার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন। প্রতীক বরাদ্দের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা।

 


Top