প্রার্থীতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে খালেদা-রুহুল-জাহিদসহ ১৪ প্রার্থী | daily-sun.com

প্রার্থীতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে খালেদা-রুহুল-জাহিদসহ ১৪ প্রার্থী

ডেইলি সান অনলাইন     ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:২২ টাprinter

প্রার্থীতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে খালেদা-রুহুল-জাহিদসহ ১৪ প্রার্থী

 

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রার্থীতা বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সাকা চৌধুরীর ভাতিজা ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে সামির কাদের চৌধুরীসহ ১০ প্রার্থী। রবিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তাদের আইনজীরা পৃথক পৃথকভাবে এসব রিট করেন।

 


এদের মধ্যে অন্য প্রার্থীরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে গণফোরাম প্রার্থী খন্দকার ইকবাল আহমেদ, টাঙ্গাইল-৮ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী আশরাফ সিদ্দিকী, নওগাঁ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজাল হোসেন, নীলফামারী-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রশিদুল ইসলাম, নীলফামারী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী, পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী তৌহিদুল ইসলাম ও বগুড়া ৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরকার বাদল এ রিট করেন।


এর আগে নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নাটোর- ২ আসনে বিএনপির প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ময়মনসিংহ- ৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ডাক্তার এজেডএম জাহিদ হোসেন ও খাগড়াছড়ি- ২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া হাইকোর্টে রিট করেন। সকালে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তারা পৃথকভাবে এসব রিট করেন।  


এ ছাড়া পটুয়াখালী-১ আসনের মনোনয়ন বাতিলে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির সদ্য সাবেক মহাসচিব ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশেষ সহকারী এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদারও রিট করেছেন। একই দাবিতে বগুড়া-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমও প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেছেন।


তফসিল অনুযায়ী, গত ২৮ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মোট তিন হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে জমা পড়ে মোট দুই হাজার ৫৬৭টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৪৯৮টি মনোনয়নপত্র।


গত ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

এগুলোর মধ্যে বিএনপির ১৪১টি, আ’লীগের ৩টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৮টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ৩৮৪টি।


এদের মধ্যে প্রার্থিতা ফিরে পেতে গত সোম থেকে বুধবার (৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত তিন দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৫৪৩টি আপিল জমা পড়েছে। বাকি ২৪৩ জন আপিল করেননি।


প্রথম দিন ৩ ডিসেম্বর ৮৪, দ্বিতীয় দিন ৪ ডিসেম্বর ২৩৭ এবং শেষ দিন বুধবার ২২২টি আপিল জমা পড়ে।


৬ ডিসেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর তিনদিনের শুনানি শেষে ২৪৩ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছন। আর ৩০০ জনের আবেদন না মঞ্জুর হয়েছে। এতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৫২২ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ১৮৫ জন। আপিল আবেদনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। এরপরেই আছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থান।


বিএনপির অন্তত ৭৮ জন তাদের প্রার্থিতা ফেরত পেলেও  বিএনপি প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পাননি।


তিনদিনের শুনানিতে হাই প্রোফাইল প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপি নেতা আমানুল্লাহ আমান, মীর নাছির, মীর হেলাল, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বিশেষ উপদেষ্টা রুহুল আমীন হাওলাদার, গণজাগরন মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ তিনশত প্রার্থীর আবেদন না মঞ্জুর করেছে কমিশন।


উল্লেখ্য, ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ওই তফসিল অনুযায়ী, ২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন নির্ধারিত হয়। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আবেদনের ভিত্তিতে ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পুনঃতফসিল অনুযায়ী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর এবং ভোট গ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়।

 


Top