আপিল শুনানির তিন দিনে প্রার্থীতা ফেরত পেলেন ২৪৩ জন, বাতিল ৩০০ জন | daily-sun.com

আপিল শুনানির তিন দিনে প্রার্থীতা ফেরত পেলেন ২৪৩ জন, বাতিল ৩০০ জন

ডেইলি সান অনলাইন     ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:১০ টাprinter

আপিল শুনানির তিন দিনে প্রার্থীতা ফেরত পেলেন ২৪৩ জন, বাতিল ৩০০ জন

 

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীতার পক্ষে-বিপক্ষে করা আপিলে নির্বাচন কমিশনের তিন দিনের শুনানি শেষে ২৪৩ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছন। আর ৩০০ জনের আবেদন না মঞ্জুর হয়েছে।

এতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৫২২ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ১৮৫ জন। আপিল আবেদনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। এরপরেই আছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থান।


বিএনপির অন্তত ৭৮ জন তাদের প্রার্থিতা ফেরত পেলেও  বিএনপি প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পাননি।


সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনটি আসনের আপিল আবেদন নামঞ্জুর হয়। এছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে অবৈধ প্রার্থীরা প্রার্থিতা ফেরত পেলেও বৈধ প্রার্থীর ক্ষেত্রে কেউ সফলতা পায়নি। বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা বৈধ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অন্তত ২০ জন আপিল করেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের করেছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বিরা।


৬ ডিসেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর তিনদিনের শুনানিতে হাই প্রোফাইল প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপি নেতা আমানুল্লাহ আমান, মীর নাছির, মীর হেলাল, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বিশেষ উপদেষ্টা রুহুল আমীন হাওলাদার, গণজাগরন মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ তিনশত প্রার্থীর আবেদন না মঞ্জুর করেছে কমিশন।

 


অন্যদিকে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, বিএনপির প্রার্থী গোলাম গোলাম মওলা রনি, আফরোজা আব্বাস, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোর্শেদ খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপি প্রার্থী ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ব্যরিষ্টার আমিনুল হক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা, জামায়াত নেতা গোলাম রব্বানীসহ দুই শতাধিক প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।


এছাড়া কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে আব্দুল মান্নানর আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।


বিএনপি ছাড়াও প্রার্থীতা ফেরত পাওয়া অন্য দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের দুইজন, জাতীয় পার্টি ১৭, গণফোরাম ৬, খেলাফত মজলিস ৩, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ৫, বিকল্পধারা ৫, এলডিপি ৪ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি ২, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ ৬,  বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট  ৪, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ১, ইসলামী ঐক্যজোট ৫ জন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৫, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি ৬, জাকের পার্টি ১৮, মুসলিম লীগ ৫, সিপিবি ৫ জন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা ১, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ৬, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ১ জন, মুসলিম লীগের ২ জন খেলাফত আন্দোলন ১ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ৪ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র ৪৪ জনের প্রার্থির আপিল মঞ্জুর হয়েছে।


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৩ হাজার ৬৫ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ৫৬৭ ও বাকি ৪৯৮ জন স্বতন্ত্র। ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করে ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এর মধ্যে বিএনপির ১৪১ ও আওয়ামী লীগের ৩ জন রয়েছেন। পরে কমিশনে আপিল করেন ৫৪৩ জন। আপিলকারীদের মধ্যে অন্তত ২০ প্রার্থীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল জমা হয়। বাকি সবাই প্রার্থিতা ফিরে পেতে আবেদন করেন। সিইসি কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের কমিশন এসব আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করেন।


নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তরা জানান, শুনানির প্রথম দিন ৮০ জন, দ্বিতীয় দিনে ৭৮ জন এবং শনিবার শেষ দিনে ৮৫ জনসহ তিন দিনে মোট ২৪৩ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আগে থেকে বৈধ থাকা দুই হাজার ২৭৯ জন প্রার্থীর সঙ্গে আপিলে ফিরে আসা প্রার্থী মিলে প্রায় দুই হাজার ৫২২ জন বৈধ প্রার্থী হলো এবার। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ১৮৫ জন। শুনানির শেষ দিন শনিবার রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত আপিল আবেদনের শুনানি চলে।

 


আপিলে কোন দলের কত প্রার্থী টিকলেন: শনিবার আপিলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ১৮, গণফোরাম ৪, খেলাফত মজলিস ১, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ৩, বিকল্পধারা ৫, জাতীয় পার্টি-জেপি ২, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রনট-বিএনএফ ৪, ইসলামী ফ্রন্ট ১, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ১, ইসলামী ঐক্যজোট ১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৭, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি ২, জাকের পার্টি ৬, মুসলিম লীগ ৫, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা ১, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ২, খেলাফত আন্দোলন ১ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ৩ জন প্রার্থিাতা ফিরে পেয়েছেন।


এদিন স্বতন্ত্র ১৮জন প্রার্থির আপিল মঞ্জুর হয়েছে।


দ্বিতীয় দিন শুক্রবার প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বিএনপির ২১ প্রার্থী, জাতীয় পার্টির ৭ জন, জাকের পার্টির ৭জন, জাসদ ৪জন, ইসলামী ঐক্যজোটের ২ জন, সিপিবি ৫ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৬ জন, এনপিপির ৩ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ১ জন, জেএসডি’র ২ জন, এলডিপির ১ জন, বিএনএফ এর ২ জন এবং ১২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।


প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) বিএনপির ৩৮ জন স্বতন্ত্র ১৩ জনসহ বিভিন্ন দল মিলিয়ে ৭৮ জনের আপিল আবেদন মঞ্জুর হয় যাদের প্রার্থিতা ফিরেছে।


দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৬৪টি আসনে ২৮১জন  এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ২৯৫টি আসনে ৬৯৬জন এবং জাতীয় প্রার্থী ২১০টি আসনে ২৩৩ জন প্রার্থী দিয়েছিল।


শেষ দিনে প্রার্থিতা পেলেন যারা: ইসির আপিল শুনানির শেষ দিনে ৮৪জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- জামালপুর-৩ আসনের নঈম জাহাঙ্গীর, নেত্রকোনা-১ আসনের আব্দুল কাইয়ুম খান, ময়মনসিংহ-৬ আসনের চৌধুরী মুহাম্মাদ ইসহাক, ব্রাম্মণবাড়িয়া-২ শাহ মফিজ, ব্রাম্মণবাড়িয়া-২ মহিউদ্দিন মোল্লা, ব্রাম্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সৈয়দ মাহমুদুল হক, চট্টগ্রাম-৯ আসনের মো. মোরশেদ সিদ্দিকি, চাঁদপুর-৪ আসনের জেড খান মো. রিয়াজ উদ্দিন, খাগড়াছড়ি আসনের নতুন কুমার চাকমা, চট্টগ্রাম-৫ আসনের নাসির উদ্দিন, বান্দরবান আসনের মা ম্যা চিং, চট্টগ্রাম-৮ আসনের এম মোরশেদ খান, রাজশাহী-৫ আসনের মো. আবু বকর সিদ্দিকি ও নাদিম মোস্তফা, রাজশাহী-৬ আবু সাঈদ চাঁদ, জয়পুরহাট-১ আসনের আলেয়া বেগম, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের মো. আলী আলম, রাজশাহী-১ মুজিবুর রহমান, যশোর-৫ ইবাদুল খালেসী, কুষ্টিয়া-৪ আসনের মো. তছির উদ্দিন, যশোর-১ আসনের মো. সাজেদুর রহমান, যশোর-৪ লিটন মোল্লা, যশোর-৫ রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল-১ ফকির মাহবুব আনান স্বপন, ঢাকা-১৭ শওকত আজিজ, ঢাকা-১৯ মো. কফিল উদ্দিন, লক্ষীপুর-২ রহুল আমিন ভূঞা, চট্টগ্রাম-৫ আসনে মাসুদুল আলম বাবলু, ব্রাম্মণবাড়িয়া-৬ আসনের এ কে এম জাবির, চট্রগ্রাম-১৩ নারায়ণ রক্ষিত, কুমিল্লা-৩ মো. আকবর আমিন বাবুল, ব্রাম্মণবাড়িয়া-৫ আসনের কাজী নাজমুল হোসেন, যশোর-৪ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, যশোর-৫ আসনের নিজাম উদ্দিন অমিত, যশোর-৩ আসনের সৈয়দ বিপ্লব আজাদ, যশোর-২ আসনের এম আছাদুজ্জামান ও ফিরোজ শাহ, হবিগঞ্জ-৪ আনছারুল হক, সিলেট-১ আনোয়ার উদ্দিন বোরহান, সিলেট-৫ মো. নুরুল আমিন, নীলফামারী-১ এ আহম্মেদ বাবের বিল্লাহ (মুন), নীলফামারী-৩ আব্দুল ওয়াহেদ, রংপুর-৪ বেলাল হোসেন, ঢাকা-১৭ আসনের নাজমুল হুদা, রাজশাহী- ৩ মেরাজ উদ্দিন মোল্লা। নারায়নগঞ্জ -১ মো. মাহফুজুর রহমান, ঝিনাইদহ -৩ ইসমাইল হোসেন, কুষ্টিয়া -১ মো. আবদুল খালেক সরকার, রাজশাহী-১ মো. আলফাজ হোসেন, কক্সবাজার -১ মো. হাবিবুল্লাহ, বি বাড়িয়া -৩ মওলানা মুজিবুর রহমান, বান্দরবান ওম্মে ককুলসুম সুলতানা লীনা, কুমিল্লা-৬ সৈয়দ গোলাম মহিউদ্দিন , চট্টগ্রাম -৪ আসনের মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী।


উল্লেখ্য, ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ওই তফসিল অনুযায়ী, ২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন নির্ধারিত হয়। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আবেদনের ভিত্তিতে ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পুনঃতফসিল অনুযায়ী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর এবং ভোট গ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়।

 


Top