নেত্রকোনা বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ করলো উদীচী | daily-sun.com

নেত্রকোনা বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ করলো উদীচী

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৯:২৯ টাprinter

নেত্রকোনা বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ করলো উদীচী

সাম্প্রদায়িক, জঙ্গি, মৌলবাদী গোষ্ঠীকে সমূলে বিনাশ, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখা এবং বাংলার মাটিতে তাদের সব ধরনের কর্মকা- নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় নেত্রকোনা বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ করলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

 

নেত্রকোনা হত্যাকা-র ১৩তম বার্ষিকীতে নিহতদের স্মরণে আজ শনিবার (৮ ডিসেম্বর) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে উদীচী আয়োজন করা হয় প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 

২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ঘৃণ্য হামলায় প্রাণ হারান উদীচী’র তৎকালীন সহ-সাধারণ সম্পাদক খাজা হায়দার হোসেন, সংগঠন বিষয়ক সম্পাদক সুদীপ্তা পাল শেলীসহ আটজন।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচী’র শিল্পীরা। এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান, মাহমুদ সেলিম, প্রবীর সরদার, সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এবং হামলার সময় নেত্রকোনা জেলা সংসদের নাট্য বিষয়ক সম্পাদক জয়শ্রী বীথি।

 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম।

 

এসময় বলেন, ৭১’র পরাজিত শক্তি আবারো বাংলাদেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, জঙ্গিগোষ্ঠী নানাভাবে তাদের অপকৌশল প্রয়োগে সচেষ্ট রয়েছে। তাদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার উৎস বন্ধ করতে না পারলে এদেশকে আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের মতো ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য তাদের যে অপচেষ্টা তা রোখা কঠিন হবে। তবে, এদেশের প্রগতিশীল জনতা সেই চেষ্টা কখনোই সফল হতে দেবে না বলে মন্তব্য করেন তারা।

ভবিষ্যতে ভিন্ন কোন লেবাসে বা অন্য কোন দলের কাঁধে ভর করে স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী অপশক্তি যেন আর কখনোই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হতে না পারে তা নিশ্চিত করতে এসময় সবার প্রতি আহবান জানান উদীচী নেতৃবৃন্দ।

 

 

নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠানস্থলে স্থাপিত অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা মহানগর সংসদ এবং ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের নেতারা। পরে সন্ধ্যায় আলোক প্রজ্জ্বলন করা হয়।

 

২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে নেত্রকোনায় উদীচী কার্যালয়ের লাগোয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন শতদল গোষ্ঠীর কার্যালয়ে একটি বোমা পড়ে থাকতে দেখে এক পথচারী। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খাজা হায়দার হোসেন এবং সুদীপ্তা পাল শেলীসহ উদীচী’র নেতৃবৃন্দও ভীড় করেন ঘটনাটি দেখতে। এর ঘন্টাখানেক পর সাইকেল আরোহী এক যুবক নিরাপত্তা বেস্টনী পেরিয়ে উদীচী নেতৃবৃন্দের কাছাকাছি পৌঁছেই তার সাইকেলে বহন করে আনা বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটালে ঘটনাস্থলেই মারা যান উদীচী নেত্রকোনা জেলা সংসদের সেসময়কার সহ-সাধারণ সম্পাদক খাজা হায়দার হোসেনসহ সাতজন। বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন নয়জন পুলিশ সদস্য এবং উদীচী’র বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীসহ অন্তত ৬০ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন মারা যান সুদীপ্তা পাল শেলী।


Top