১৭ আসনে আ'লীগের একক প্রার্থী যারা | daily-sun.com

১৭ আসনে আ'লীগের একক প্রার্থী যারা

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৫:৫৫ টাprinter

১৭ আসনে আ'লীগের একক প্রার্থী যারা

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ১৭টি আসনে দলটির একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন ফরম দেয়া হয়েছিল।

অবশেষে সেইসব আসনে একক প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।


ওই ১৭টি আসনে যারা একক প্রার্থী হয়েছেন তারা হলেন- সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ-১, শিরীন শারমিন চৌধুরী রংপুর-৬, মহীউদ্দীন খান আলমগীর চাঁদপুর-১, শফিকুর রহমান চাঁদপুর-৪, আ স ম ফিরোজ পটুয়াখালী-২, একেএম শাহজাহান লক্ষ্মীপুর-৩, নিজাম উদ্দিন জলিল নওগাঁ-৫, নড়াইল-১ বিএম কবিরুল হক, বরগুনা-১ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, জামালপুর-১ আবুল কালাম আজাদ, নাটোর-১ শহিদুল ইসলাম বকুল, জামালপুর-৫ মো. মোজাফ্ফর হোসেন, ঢাকা-৫ হাবিবুর রহমান মোল্লা, ঢাকা-৭ হাজী সেলিম, ঢাকা-১৭ আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক), চাঁদপুর-২ নুরুল আমিন এবং টাঙ্গাইল-২ ছোট মনির।


এসব আসনে দলের অন্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।


এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দলের এবং জোটের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ করা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সফলভাবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছি। দল থেকে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন শুক্রবারের মধ্যেই তারা চূড়ান্ত চিঠি পেয়ে যাবেন। '


তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অনেক দিন ধরে ক্ষমতায় আছে। দলের অনেক প্রার্থী, এর মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা খুবই কঠিন কাজ।

কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার গত ৭ বছর ধরে সার্ভে রিপোর্ট এবং তা ৬ মাস পর পর হালনাগাদ করার জন্য দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ করা সহজ হয়েছে। জরিপের ফলাফল মনোনয়নে মূল ভূমিকা পালন করেছে। প্রার্থী মনোনয়নে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জরিপের বাইরেও বিভিন্নভাবে জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ’


তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নয়, প্রতিপক্ষ বিএনপি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীদেরও বিষয়েও জরিপ করেছি। আর এজন্যই আমরা শুধু আমাদের নয়, অন্যান্য দলের অবস্থান সম্পর্কেও আমরা জানতে পেরেছি। সব বিবেচনা করে দলের সংসদীয় বোর্ড দলীয় মনোনয়ন প্রদান করেছে। ’


তিনি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাদের বেশির ভাগই রাজনীতিবিদ। ব্যবসায়ী মাত্র ১৬ থেকে ১৭ জন, ৩৭ থেকে ৩৮ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং নতুন মুখ প্রায় ৫০ জন। যারা অতীতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন।


এর আগে গত ২৫ নভেম্বর দলীয় মনোনয়নের চিঠি বিতরণ শুরু করে আওয়ামী লীগ। গত ৯ নভেম্বর মনোনয়ন ফরম বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে দলটি। ৩০০ আসনে ৪ হাজার ২৩ জন মনোনয়ন ফরম জমা দেন। ১২ নভেম্বর মনোনয়ন ফরম জমা নেওয়া শেষ হয়।


ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২৬৪টি আসনে ২৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে নৌকার বৈধ প্রার্থী ২৭৮ জন, ৩ জনের আবেদন বাতিল হয়। বিএপির ২৯৫টি আসনে ধানের শীষে ৬৯৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৫৫৫ জন, বাতিল হয়েছে ১৪১ জনের মনোনয়নপত্র। ২১০ আসনে জাতীয় পার্টির ২৩৩ জন প্রার্থীর দাখিল করা মনোনয়নপত্রের মধ্যে লাঙ্গল প্রতীকে বৈধতা পেয়েছেন ১৯৫ জন, বাতিল হয়েছে ৩৮ জনের মনোনয়নপত্র।


এদিকে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী জাতীয় পার্টিকে (জাপা) ৩৬টি আসনে ছাড় দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) থেকে মহাজোটের চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দেয় আওয়ামী লীগ। যদিও দলটি আরো কয়েকটি আসন আসা করছে। এছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টি পেয়েছে ৫টি আসন। তিনটি করে আসন পেয়েছে জাসদ (ইনু) ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ, আর দুটি আসনে তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থীদের চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ওই তফসিল অনুযায়ী, ২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন নির্ধারিত হয়। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আবেদনের ভিত্তিতে ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পুনঃতফসিল অনুযায়ী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর এবং ভোট গ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়।

 


Top