ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত | daily-sun.com

ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৪:৫৯ টাprinter

ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত

 

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রার্থী ঘোষণার কথা ছিল।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মিডিয়া কোঅর্ডিনেটর লতিফুল বারি হামিম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।


তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে প্রার্থী ঘোষণার কার্যক্রমটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। প্রার্থীর নাম ঘোষণার তারিখ পরবর্তীতে সাংবাদিকদের জানিয়ে দেয়া হবে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বলেন, জোটের সর্ববৃহৎ শরিক দল বিএনপি এখনো প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেনি, এ কারণেই ঘোষণা পেছানো হলো।


এর আগে শুক্রবার বিকেলে ঐক্যফ্রন্টের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জোটের প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল।


প্রসঙ্গত, বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট এবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জোটভুক্ত হয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করবে। এ জোটের বাকি শরিক দলগুলো হচ্ছে গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

 

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা আজ শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) প্রকাশ করবে বিএনপি। দিনের যেকোনো সময় এ তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির প্রার্থী তালিকা আংশিক ঘোষণা করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি। আজ শুক্রবার এ তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে বলে গতকাল জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।


বিএনপির নির্বাচন পরিচলনা কমিটির প্রধান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের বরাত দিয়ে শায়রুল কবির খান জানান, তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়নি। তাই আজকে (বৃস্পতিবার) প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হবে না। আগামীকাল (শুক্রবার) যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে।


বিএনপি ও তাদের দুই জোটের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত একক প্রার্থী ঘোষণায় বিএনপির পিছু হটার পেছনে অন্তত তিনটি কারণ ও যুক্তি রয়েছে-


প্রথমত অনেকের প্রার্থিতা বাতিলের আপিল শেষ না হওয়া; দ্বিতীয়ত দুই জোটের শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা না হওয়া; তৃতীয়ত বিএনপি একক প্রার্থী ঘোষণায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আপত্তি।


বিএনপির একটি সূত্র জানায়, ২২০টি আসনে বিএনপির একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে। বাকি ৮০টির মধ্যে থেকে ৭০টি আসনে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ছাড় দেবে বিএনপি। বাকি ১০টি আসন বিএনপি হাতে রেখেছে। সেখানে যেকোনও দলের প্রার্থীই নির্বাচন করতে পারেন। তবে শরিকদের সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার মানসিকতা রয়েছে বিএনপির।


প্রসঙ্গত, গত ২৬ এবং ২৭ নভেম্বর বিএনপি দল এবং তার জোট ২০ দলের শরিকদের মধ্যে মনোনয়নের চিঠি বিতরণ শুরু করে। আট শতাধিক নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হলেও জমা পড়ে ৬৯৬ টি। তবে যাচাই বাছাইয়ে বাদ পড়ে যান ১৪১ জন। এদের মধ্যে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও রয়েছেন।


এর মধ্যে ৯১টির মতো আসনে বিএনপি অথবা তার জোটের একক প্রার্থী প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে যাচাই বাছাইয়ে বিকল্প প্রার্থীরা বাদ পড়ে যাওয়ায়। মোট ২৯৫টি আসনে প্রার্থিতা জমা হলেও সাতটিতে বিএনপির কোনো বৈধ প্রার্থী নেই।


তবে এর দুটিতে জোটের দুই শরিক দলের নেতা রয়েছেন। বাকি সব আসনেই একাধিক প্রার্থী রয়ে গেছে।


এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) প্রার্থীদের বৈধতা পেতে ইসিতে প্রথম দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন তালিকার ১ থেকে ১৬০ পর্যন্ত শুনানি হয়। এতে ৮০ জন তাদের প্রার্থিতা ফেরত পান। এর মধ্যে বিএনপির ৩৮ এবং আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে ইসি।


পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, আজ শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) আপিল তালিকার ১৬১ থেকে ৩১০ নম্বর পর্যন্ত এবং আগামীকাল শনিবার শেষ দিন ৩১১ থেকে ৫৪৩ নম্বর পর্যন্ত শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গত ২৮ নভেরের মধ্যে ৩ হাজার ৬৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গত ২ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাইয়ের পর নানা কারণে ৭৮৬টি বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে প্রার্থিতা ফিরে পেতে গত সোম থেকে বুধবার পর্যন্ত তিন দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৫৪৩টি আপিল জমা পড়েছে। বাকি ২৪৩ জন আপিল করেননি।


উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর থেকে প্রার্থী ও তার সমর্থকরা নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন।

 


Top