সাবিরার সাজা স্থগিতাদেশ চেম্বারে স্থগিত | daily-sun.com

সাবিরার সাজা স্থগিতাদেশ চেম্বারে স্থগিত

ডেইলি সান অনলাইন     ১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:৩০ টাprinter

সাবিরার সাজা স্থগিতাদেশ চেম্বারে স্থগিত

 

দুর্নীতির মামলায় যশোর-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার কারাদণ্ড স্থগিত করে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার জজ আদালত। একইসঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আগামীকাল রবিবার (২ ডিসেম্বর) দিন ধার্য করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


তারা আরও জানান, এ আদেশের ফলে সাজা ও দণ্ড স্থগিত হলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকল না।


শনিবার (১ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশির উদ্দীন প্রমুখ।  


সাবিরা সুলতানার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এবিএম বায়েজিদ ও খুরশীদ আলম খান।


বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যশোর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানাকে বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা ও দণ্ড স্থগিত করেন বিচারপতি মোহাম্মদ রইচ উদ্দিনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

 


পরে সাবিরা সুলতানার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম জানান, বিচারিক আদালতের দেওয়া সাবিরা সুলতানার সাজা ও দণ্ড স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

এর ফলে এই আদেশের পর থেকে যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান তারা হাইকোর্টে সাজা বা দণ্ড স্থগিত চেয়ে আবেদন করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।


তবে গত ২৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সংবিধান অনুসারে ২ বছরের অধিক সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে অযোগ্য হবেন। তাই হাইকোর্টের এই একক বেঞ্চের আদেশের বিরুদ্ধে আমরা আপিলে যাব।


এর আগে গত ২৮ নভেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এক পর্যবেক্ষণে বলেন, দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিলে ওই দণ্ড চূড়ান্তভাবে বাতিল বা স্থগিত হয়।


প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১২ জুলাই মিথ্যা তথ্য ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবিরা সুলতানাকে ঢাকার বিশেষ আদালতের বিচারক শহিদুল ইসলাম তিন বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। রায়ে সাবিরা সুলতানার ১ কোটি ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ দেয়া হয়।


এরপর ১৭ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ-৭ এর বিচারক মো. শহিদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। আদালত জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে সাবিরা সুলতানা গত ৬ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন।


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে সাবিরা সুলতানা তার সাজা ও দণ্ড স্থগিত চেয়ে আবেদন জানালে তার শুনানি গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। কিন্তু, নিয়ম অনুসারে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন মামলাটি শুনানির জন্য বিচারপতি মোহাম্মদ রইচ উদ্দিনের একক বেঞ্চে পাঠান। সেই বেঞ্চ সাবিরা সুলতানার সাজা ও দণ্ড স্থগিত করায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

 

আরও পড়ুন:

 

দণ্ডিতদের ভোটে অযোগ্য বহাল রাখতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

 

বিচারক মতামত প্রকাশ করতে পারেন, কিন্তু সবার উপরে সংবিধান: অ্যাটর্নি জেনারেল

 

দণ্ড স্থগিত হলে ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন: হাইকোর্ট

 

সরকার আদালতকে ব্যবহার করে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টকে প্রতিহত করতে চায়: ফখরুল


খালেদা খালাস পেলেও নির্বাচনে যেতে অপেক্ষা করতে হবে ৫ বছর: অ্যাটর্নি জেনারেল


খালেদা আমান জাহিদসহ বিএনপির ৬ নেতা নির্বাচন করতে পারছেন না


দুই বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্তরা ভোটে অযোগ্য: হাইকোর্ট

 

 


Top