চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি | daily-sun.com

চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ২০:০২ টাprinter

চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি

বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি সাহিত্যিক, অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইমপালস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির একদিন পর তার সবশেষ অবস্থা তুলে ধরেন চিকিৎসক।

ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ড আগামী ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা তাকে পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানা গেছে।

 

গতকাল রোববার সকালে ব্রেনস্ট্রোক করে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তিনি শহীদুল্লাহ সবুজের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে। তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

 

হাসপাতালে আমজাদ হোসেনের ছেলে সোহেল আরমান বলেন, ‘আব্বুর অবস্থা ভালো না। মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন বাবার শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার এম্বুলেন্সে করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। তবে রাষ্ট্র চাইলে এটা সম্ভব। আর সেটাও দ্রুত করতে হবে।

সন্তান হিসেবে বাবার জন্য দোয়া চাওয়া আর ছাড়া আর কিছু বলার নেই। ’

 

এসময় পরিবারের সদস্যরা আমজাদ হোসেনের জন্য দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন।

 

আমজাদ হোসেনের জন্ম ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট, জামালপুরে। জামালপুরের গর্বিত সন্তান হিসেবেই তিনি বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীর কাছে চলচ্চিত্রের ম্যাধমে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। শৈশব থেকেই আমজাদ হোসেনের সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় এসে সাহিত্য ও নাট্যচর্চার সাথে জড়িত হন। প্রথমেই তিনি অভিনয়ে নিজেকে তুলে ধরেন পাবনার সন্তান মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে। এরপরপরই তিনি অভিনয় করেন মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে। তবে এরপরের ইতিহাসটা একেবারেই অন্যরকম। বি বাড়িয়ার সন্তান সালাহ উদ্দিন আমজাদ হোসেনের লেখা নাটক ‘ধারাপাত’ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এতে আমজাদ হোসেন নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। এরপর আমজাদ হোসেন জহির রায়হানের ইউনিটে কাজ শুরু করেন। এভাবেই দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে ১৯৬৭ সালে তিনি নিজেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। নাম ‘জুলেখা’। এরপর নূরুল হক বাচ্চুর সঙ্গে যৌথভাবে নির্মাণ করেন ‘দুই ভাই’চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন। তার পরিচালিত ব্যাপক দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতাপুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমনি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’,‘প্রাণের মানুষ’,‘সুন্দরী বধূ’,‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’ ‘গোলাপী এখন বিলেতে’। ১৯৭৩ সালে সর্বপ্রথম মুক্তিযোদ্ধা পরিচালকদের অনুপ্রেরণায় বিএফডিসিতে পরিচালক সমিতি গঠিত হয়। কিন্তু এই সংগঠনটি বেশিদিন স্থায়ীত্ব লাভ করেনি। ১৯৮১ সালে সেই সমিতি আবারো যাত্রা শুরু করে। এই পুণঃরায় যাত্রা শুরুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন আমজাদ হোসেন। ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সমিতির হয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে গুণী এই চলচ্চিত্র পরিচালক পরিচালক সমিতির আজীবন সদস্য হিসেবে আছেন। গুণী এই পরিচালক ১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।


Top