খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন: ফখরুল | daily-sun.com

খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন: ফখরুল

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১৭:৩৪ টাprinter

খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন: ফখরুল

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখনো নির্বাচনের যোগ্য। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

সোমবার (১৯ নভেম্বর) দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ গ্রহণের এক পর্যায়ে বেরিয়ে এসে তিনি এসব কথা বলেন।


মির্জা ফখরুল বলেন, সংলাপের সময় বলা হয়েছিল তফসিল ঘোষণার পর আর কোনো মামলা হবে না। কিন্তু ক্ষোভের বিষয় হলো আমাদের যে সব প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে।


দলের মনোনয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা দলের প্রতি অনুগত, দলের প্রতি আস্থাবান তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।


এর আগে সকাল ১০টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ঠিক করতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হয়। আজও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এ সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।  


এ দিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠী, পিরোজপুর, ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। এরপর বেলা আড়াই থেকে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু হয়।  


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মনোনয়ন বোর্ডের অপর সদস্যরা হলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।


এর আগে রবিবার (১৮ নভেম্বর) শুরু হওয়া এ সাক্ষাতকার চলবে ২১ নভেম্বর (বুধবার) পর্যন্ত।


মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। আর শেষ দিন বুধবার (২১ নভেম্বর) নেওয়া হবে ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও ঢাকা বিভাগের সাক্ষাৎকার।


মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে জানা গেছে, তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের ভূমিকা এবং নিজ নিজ এলাকায় সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানতে চাইছেন।


মনোনয়নপ্রত্যাশী নিজ এলাকার কর্মী-সমর্থকদের আগলে রাখতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে বারবার জানতে চাইছে দলীয় মনোনয়ন বোর্ড। নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রার্থী শেষ পর্যন্ত ব্যাপক সমর্থন নিয়ে টিকে থাকতে পারবেন কিনা, সেদিকে ফোকাস তারেক রহমানেরও।


সাক্ষাৎকারের শুরুতেই বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জানিয়েছেন, কোন নেতার কী অবদান, বিগত ১২ বছর কে কী করেছেন, সে খবর দলের কাছে আছে। এর পরই প্রার্থীর কাছে প্রশ্ন করা হচ্ছে- এই ১২ বছর প্রার্থী সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি দলের দ্বারা কী ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন? তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে কীভাবে ছিলেন? এবং নিজে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন?


এর পর সাক্ষাৎকারে জানতে চাওয়া হচ্ছে, এলাকায় প্রার্থীর অবস্থান কতটা শক্তিশালী। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে ভোটের লড়াইয়ে থাকতে পারবেন কিনা?


এর আগে প্রথমদিন রবিবার (১৮ নভেম্বর) সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে ৫৩০ জনের। রংপুর বিভাগে ৩৩ আসনে ১৬৮ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৩৯ আসনে ৩৬২ জনের সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে।


এর আগে ১২-১৬ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছে ফরম বিক্রি করে বিএনপি। শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় বিএনপি। দলটি সর্বোচ্চসংখ্যক ৪ হাজার ৫৮০ মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে।


বিভাগওয়ারি প্রার্থীদের সাক্ষাতের তারিখ ও সময়:


১৯ নভেম্বর (সোমবার) বরিশাল বিভাগ, সকাল ৯টা থেকে বেলা দেড়টা এবং খুলনা বিভাগ, বেলা আড়াইটা থেকে।

 

২০ নভেম্বর (মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম বিভাগ, সকাল ৯টা থেকে বেলা দেড়টা, কুমিল্লা ও সিলেট বিভাগ, বেলা আড়াইটা থেকে।

 

২১ নভেম্বর (বুধবার) ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগ, সকাল ৯টা থেকে বেলা দেড়টা এবং ঢাকা বিভাগ, বেলা আড়াইটা থেকে।

 


Top