সারাদেশকে দাসশিবিরে পরিণত করা হয়েছে: রিজভী | daily-sun.com

সারাদেশকে দাসশিবিরে পরিণত করা হয়েছে: রিজভী

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১৪:১৫ টাprinter

সারাদেশকে দাসশিবিরে পরিণত করা হয়েছে: রিজভী

 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর সীমাহীন জুলুমের পরও এখন দিনরাত বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে তল্লাশির নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় সারাদেশকে দাসশিবিরে পরিণত করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের বাড়িতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপরও হামলা করছে, মারধর করছে, কিংবা পরিবারের সদস্যদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার (১৯ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের বেপরোয়া আচরণ ও হয়রানিতে আবারো ‘ফেনী মার্কা’ নির্বাচনের আলামত পাওয়া যাচ্ছে।


রিজভী আরও অভিযোগ করেন, ‘প্রিজাইডিং অফিসারদের নামের তালিকা সংগ্রহ এবং বিএনপির কোনো লোক নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছে কি না ইত্যাদি তদারকি করছে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। সারাদেশে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ মিলে তালিকা তৈরি করছে। স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকদের মধ্যে কারা কারা সরকার দলের সমর্থক, কারা বিরোধী দলের সমর্থক তাদের তালিকা করছে তারা। এমনকি বিরোধী মতের সমর্থক হলে তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হচ্ছে বা তাদের হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে, আপনারা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন না। গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে মোবাইলেও তাদেরকে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশের প্রকাশ্য ও গোপন হুমকিতে এ নিয়ে দেশজুড়ে শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ’


রিজভী বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের অবস্থান দেখে হাবুডুবু খাওয়াতেই নির্বাচনী মাঠ জনশূন্য করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি দেউলিয়া হয়ে গেছে বলেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনাচারে লিপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নেপথ্যলোকের বার্তানুযায়ী কাজ করছে বলেই ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় চোখ বন্ধ করে রাখে।


তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ নেই বলেই এখন পর্যন্ত তাদের কোনো কাজ তারিফযোগ্য হয়নি। আইন, আদালত ও প্রশাসনকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করার পর কব্জার মধ্যে থাকা নির্বাচন কমিশনকে একেবারে গিলে ফেলেছে সরকার। এখন নোংরাভাবে ইসিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। কারণ ইসির কতিপয় কর্মকর্তা সেই সুযোগ করে দিয়েছে। আত্মা বিক্রির শর্তেই কতিপয় নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ’


রিজভী বলেন, ‘ইসির কর্মকর্তা ও আওয়ামী নেতারা এখন কথা বলছেন একই সুরে। বেশ কিছু দিন আগে সিইসি বলেছিলেন, বাংলাদেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, গত দুই দিন আগে আরেকজন কমিশনার বললেন অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না। গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবও বলেছেন, পৃথিবীর কোনো দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না, বাংলাদেশেও শতভাগ স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন হবে না। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তাদের বক্তব্য এক অশনিসংকেত। ’


সিইসি ও ইসির বক্তব্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও ভোট ডাকাতিতে উৎসাহিত করবে। তারা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য শপথ নিয়েছেন, কিন্তু নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে তারা শপথ ভঙ্গ করেছেন। যে বক্তব্যটি অবৈধ শাসকগোষ্ঠীকেই উৎসাহ যোগাবে বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।

 


Top