এবার সৌদি সাংবাদিক খাশোগির লাশ টুকরো করার ছবি ফাঁস! | daily-sun.com

এবার সৌদি সাংবাদিক খাশোগির লাশ টুকরো করার ছবি ফাঁস!

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১৩:৫১ টাprinter

এবার সৌদি সাংবাদিক খাশোগির লাশ টুকরো করার ছবি ফাঁস!

 

সৌদি আরবের রাজতন্ত্র-বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার সর্বশেষ প্রমাণ হিসেবে বেরিয়ে এসেছে তার মরদেহ টুকরো করার ছবি। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের পাঠানো ১৫ সদস্যের কিলিং স্কোয়াড খাশোগিকে যে হত্যা করেছে এটা তার সর্বশেষ প্রমাণ।

ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট ও স্বাধীন লেখকদের জন্য উন্মুক্ত প্লাটফর্ম আল সুরার একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদেনে বলা হচ্ছে, খাশোগিকে হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য তার মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। তারা দাবি করছে, তুরস্কের তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের হাতে যে ছবি এসেছে সেখানে খাশোগির মরদেহ টুকরো করার দৃশ্য দেখা যায়। খাশোগি হত্যার প্রায় দেড় মাসের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো হত্যাকাণ্ডের ছবি প্রকাশিত হলো। তবে তাদের হাতে থাকা ওই ছবিগুলো এখনও বিশ্বাসযোগ্য কোন পক্ষকে দিয়ে যাচাই করা হয়নি।


সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ১৫ সদস্যের কিলিং স্কোয়াডকে খাশোগি হত্যার জন্য তুরস্কে পাঠানো হয়। তাদের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল যে, ২ অক্টোবর কনস্যুলেটে যাবেন খাশোগি। তাই পরিকল্পনা মাফিক ওইদিনই তারা কনস্যুলেটে গিয়ে খাশোগিকে হত্যার পর তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে তা নিশ্চিহ্ন করতে এসিডের মাধ্যমে গলিয়ে ফেলে। ১৫ সদস্যের ওই কিলিং স্কোয়াডে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞও ছিলেন।


খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার পর রিয়াদ প্রথমে অস্বীকার করে তারা এ ব্যাপারে কিছু্ই জানে না। কিন্তু চাপে পড়ে ঘটনার সপ্তাহখানেক পর সৌদি অ্যাটর্নি জেনারেল শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হন খাশোগিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সম্প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষ খাশোগি হত্যায় জড়িত ১১ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেন। এদের মধ্যে পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।


মার্কিন তদন্ত সংস্থা সিআইএ খাশোগি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের পর জানিয়েছে যে, গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এদিকে ঘটনার প্রায় একমাস পর তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হয় খাশোগি হত্যার অডিও রেকডিং তাদের হাতে আছে এবং ওই রেকর্ডিংগুলো তারা পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে পাঠিয়েছে।


নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমেরিকায় বসবাসরত খাশোগি ওয়াশিংটন পোস্টে নিয়মিত কলাম লিখতেন। সেই ওয়াশিংটন পোস্টই গত শুক্রবার সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সিআইএ'র তদন্তে মোহাম্মাদ বিন সালমানই খাশোগিকে হত্যার নির্দেশদাতা বলে প্রমানিত হয়েছে।   


দৈনিকটি আরও জানিয়েছে, সিআইএ যেসব তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের ছোট ভাই ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে খাশোগির টেলিফোনালাপ।


ওই ফোনালাপে খালিদ খাশোগিকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে গিয়ে সৌদি কনস্যুলেট থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করতে বলেন এবং তার কোনো ক্ষতি হবে না বলে নিশ্চয়তা দেন। কিন্তু খাশোগি সেখানে গিয়ে নিহত হন এবং এর দু’দিন পরই খালিদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে তড়িঘড়ি করে সৌদি আরবে ফিরে যান। তাকে আর ওয়াশিংটনে ফেরত না পাঠিয়ে অন্য কাউকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।


ওয়াশিংটন পোস্ট আরো জানিয়েছে, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পরপরই ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট থেকে করা একটি ফোনকলও আমলে নিয়েছে সিআইএ। ওই ফোনকলে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘাতক দলের সদস্য মাহের মুতরেব জানান, অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।

 


Top