নয়াপল্টনে সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে জানতে পুলিশকে ইসির চিঠি | daily-sun.com

নয়াপল্টনে সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে জানতে পুলিশকে ইসির চিঠি

ডেইলি সান অনলাইন     ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১০:৫৪ টাprinter

নয়াপল্টনে সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে জানতে পুলিশকে ইসির চিঠি

 

রাজধানীর নয়াপল্টনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির মনোনয়নপত্র বিতরণের সময় পুলিশের সঙ্গে দলটির সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা সম্পর্কে জানতে মহাপুলিশ পরিদর্শককে (আইজিপি) চিঠি দিয়েছে ইসি। চিঠিতে এ ঘটনায় কাউকে অহেতুক হয়রানি না করার জন্য বলা হয়েছে।


এ বিষয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, প্রকৃত ঘটনা কি তা জানতে পুলিশের কাছে প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর করণীয় কী হবে তা কমিশন ঠিক করবে।


উল্লেখ্য, দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্যেই বুধবার (১৪ নভেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানসহ দুটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান নিয়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। অন্যদিকে, নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষিপ্ত মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। জ্বালিয়ে দেয়া পুলিশের পিকআপ ভ্যানটির নম্বর ২৩১১। পুলিশের মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গাড়িটি ব্যবহার করতেন বলে জানা গেছে।


ওইদিন প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের পিকআপ ভ্যানটি জ্বালিয়ে দেয়া ছাড়াও বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

একটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। সংঘর্ষে নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ছাড়া পাঁচজন অফিসার ও দুজন আনসারসহ মোট ২৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।


এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে পরস্পরকে দোষারোপ করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আর পুলিশ বলেছে, বিএনপি নেতাকর্মীরা বিনা উসকানিতে তাদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরপরই পুলিশকে চিঠি দিল ইসি।


ইসি সূত্র জানায়, দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমাকে কেন্দ্র করে মিছিল, শোডাউন হওয়ায় আচরণবিধি লঙ্ঘন বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে গত ১৩ নভেম্বর চিঠি দেয় কমিশন।
পরদিনই নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ওই সংঘর্ষ হয়।


এদিকে এই ঘটনায় ওই দিন রাতেই পল্টন থানায় পৃথক তিনটি মাললা করা হয়েছে (মামলা নং ২১, ২২ ও ২৩)। এই মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ৬ নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। হুকুমের অন্য আসামিরা হলেন- জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যাত্রাবাড়ী বিএনপির সভাপতি নবীউল্লাহ নবী, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আকতারুজ্জামান এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কফিল উদ্দিন।


এসব মামলায় ওই দিন রাতেই  ৬৫ জনকে আটক করে পর দিন বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) আদালতে হাজির করে পৃথক তিন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী ৩৮ জনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাকী ২৭ জনের রিমান্ড নামঞ্জুর করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

 
এছাড়া এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ ও দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। আর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমাকে গ্রেফতার করা হয় হাইকোর্ট এলাকা থেকে।   


পরে শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন ডিবি পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদার প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


প্রসঙ্গত, ভোট পেছানো সংক্রান্ত বিভিন্ন জোটের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার নির্বাচনের তারিখের পুনঃতফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

 
পুনঃতফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২ ডিসেম্বর। ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। আর ভোটগ্রহণ করা হবে ৩০ ডিসেম্বর।


এর আগে গত ৮ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। তফসিল অনুসারে, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ ছিল ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ছিল ২২ নভেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর এবং ভোটগ্রহণ করার কথা ছিল ২৩ ডিসেম্বর।

 


Top