রংপুরে আইনজীবী বাবু সোনা হত্যার প্রধান আসামি কামরুলের মৃত্যু | daily-sun.com

রংপুরে আইনজীবী বাবু সোনা হত্যার প্রধান আসামি কামরুলের মৃত্যু

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:১৯ টাprinter

রংপুরে আইনজীবী বাবু সোনা হত্যার প্রধান আসামি কামরুলের মৃত্যু

 

পরকীয়ার জেরে রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা রথীশ চন্দ্র ভৌমিক ওরফে বাবু সোনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম মাস্টার (৪৫) অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। শনিবার (১০ নভেম্বর) ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়। রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আমজাদ হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  


তিনি জানান, গত কয়েদিন থেকে কামরুল ইসলাম মাস্টার অবসাদগ্রস্থ ছিলেন। এছাড়া মামলায় আদালতে হাজিরার দিনগুলোতে তিনি সেখানে যেতে চাইতেন না। তাকে জোর করে আদালতে পাঠনো হতো।


আমজাদ হোসেন আরও বলেন, কামরুল ইসলাম বেশ কিছুদিন থেকে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছিলেন। ভোর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর অবস্থা গুরুতর হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ভোর ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


এর আগে গত ১৩ এপ্রিল একই ঘটনায় আটক আইনজীবী বাবু সোনার ব্যক্তিগত সহকারী মিলন মোহন্তও (৩০) মারা যান। ওই দিন রাত ৯টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।


উল্লেখ্য, নগরীর তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন কামরুল। একই স্কুলে শিক্ষকতা করতেন নিহত বাবু সোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা। চলতি বছরের ২৯ মার্চ রাতে পরকীয়া প্রেমের জেরে আইনজীবী রথীশ ভৌমিককে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন স্ত্রী সিগ্ধা সরকার দীপা ও প্রেমিক কামরুল ইসলাম।


এরপর তার লাশ তাজহাট মোল্লাপাড়ায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ির ঘরে পুঁতে রাখা হয়। ৩০ মার্চ বাবু সোনার নিখোঁজের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ১ এপ্রিল মিলন মোহন্তকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বাবু সোনার স্ত্রী দীপা ও কামরুলের পরকীয়া প্রেম এবং তারাই বাবু সোনাকে হত্যা করে বলে পুলিশকে জানান মোহন্ত। এরপর ৩ এপ্রিল রাতে বাবু সোনার স্ত্রী দিপাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব আটক করে। তিনিও হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন এবং লাশের অবস্থান সম্পর্কে জানান।


পরে দীপা, কামরুল ও মিলন মোহন্ত প্রত্যেকেই আদালতে বাবু সোনাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


গত ৩০ অক্টোবর থেকে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। সর্বশেষ ৬ ও ৭ নভেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। ওইসময় আদালতে হাজির করা হয় কামরুল ও দীপাকে।

 

আরও পড়ুন:


আইনজীবী রথীশ হত্যা মামলার আসামি মিলন মোহন্তের মৃত্যু


বাবু সোনার স্ত্রীর প্রেমিক কামরুল রিমান্ডে


আইনজীবী রথীশকে হত্যার পরিকল্পনা কয়েক মাস আগেই করা হয়


আইনজীবী রথীশের স্ত্রীই লাশের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়েছে


রংপুরের নিখোঁজ আইনজীবীর লাশ উদ্ধার


জাপানি নাগরিক ও মাজারের খাদেম হত্যা মামলার আইনজীবী নিখোঁজ

 

 


Top