সাংবাদিক শিমুল হত্যায় বরখাস্তকৃত মেয়র মিরুর জামিন স্থগিতে আপিল | daily-sun.com

সাংবাদিক শিমুল হত্যায় বরখাস্তকৃত মেয়র মিরুর জামিন স্থগিতে আপিল

ডেইলি সান অনলাইন     ৫ নভেম্বর, ২০১৮ ১৩:৪২ টাprinter

সাংবাদিক শিমুল হত্যায় বরখাস্তকৃত মেয়র মিরুর জামিন স্থগিতে আপিল

- চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত মেয়র হালিমুল হক মিরু

 

সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার বরখাস্ত মেয়র হালিমুল হক মিরুকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার (৫ নভেম্বর) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ।

আপিল আবেদনে মেয়র মিরুর জামিন স্থগিত চাওয়া হয়েছে।


এর আগে গতকাল রবিবার (৪ নভেম্বর) জামিন সংক্রান্ত বিষয়ে জারি করা রুলটি যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দেন।


এদিকে উচ্চ আদালত থেকে মিরুর জামিন হয়েছে- সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। মামলার বাদী সাংবাদিক শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন  কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার দুই ছেলেমেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আমি শঙ্কিত। তারা একা একা স্কুলে যায়। মেয়র জেলখানা থেকে বের হয়ে যে কোনো ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারেন।


হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করা হবে জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের শঙ্কিত হওয়ার কথা। বিষয়টি তিনি গুরুত্বসহকারে দেখবেন।

 

- হত্যার শিকার সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল


২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মেয়র মিরুর দুই ভাই মিন্টু ও পিন্টু অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মেয়রের বাড়ি ঘেরাও করে। এ সময় মেয়রের পক্ষে দুটি শটগান থেকে গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনার খবর সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিক শিমুল গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন বগুড়া থেকে ঢাকায় আনার পথে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী বাদী হয়ে মেয়র মিরু ও তার সহোদর মিন্টু এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা নাছিরসহ জ্ঞাত ১৮ এবং অজ্ঞাত আরও প্রায় ২২ জনসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।


হত্যাকাণ্ডের তিন মাস পর গত বছরের ২ মে শিমুল হত্যা মামলার চার্জশিট দেয় পুলিশ। চার্জশিটে বলা হয়, মেয়র মিরুর গুলিতেই শিমুলের মৃত্যু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে মেয়র মিরুর লাইসেন্স করা শটগান ছাড়াও তার ভাই হাবিবুল হক মিন্টুর অবৈধ পাইপগান ব্যবহার করা হয়। মিরু ও মিন্টু দু'জনই ঘটনার দিন শিমুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।


গত পৌনে দুই বছরেও শিমুল হত্যার বিচার শুরু হয়নি। আসামি পক্ষ বিভিন্ন অজুহাতে মামলার বিচারকাজকে বাধাগ্রস্ত করছে। সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় চার্জ গঠনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। চাঞ্চল্যকর হিসেবে মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তরের জন্য গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও আজ পর্যন্ত তা অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

 


Top