যৌন হয়রানির অভিযোগে গুগলের ৪৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত | daily-sun.com

যৌন হয়রানির অভিযোগে গুগলের ৪৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত

ডেইলি সান অনলাইন     ২৬ অক্টোবর, ২০১৮ ১৮:০০ টাprinter

যৌন হয়রানির অভিযোগে গুগলের ৪৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বের’ সঙ্গে দেখা হয় বলে জানিয়েছেন গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই।

গুগলের সাবেক একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে যৌন হয়রানির দায়ে ছাঁটাই করার সময় তাকে বাড়তি কয়েক মিলিয়ন ডলার দেয়া হয়েছিল— সম্প্রতি পত্রিকায় এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এরপর সুন্দর পিচাই কর্মচারীদের আশ্বস্ত করে একটি ই-মেইল পাঠান।

 

গত দুই বছরে যৌন হয়রানির দায়ে ৪৮ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয় ওই ই-মেইলে। এদের কাউকেই কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি বলে জানান সুন্দর পিচাই।

গুগলের একজন মুখপাত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে ই-মেইলের একটি কপি পাঠিয়েছেন।

 

বরখাস্ত করা ৪৮ জনের মধ্যে ১৩ জনই কোম্পানির সিনিয়র ম্যানেজার। তাদের প্রত্যেককেই যৌন হেনস্থার অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, এদের কাউকেই কোম্পানি থেকে বহিষ্কার করার পর প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়নি।

 

সিলিকন ভ্যালির টেক কোম্পানিগুলোতে পুরুষ এবং শেতাঙ্গদের দাপট বেশি— এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংখ্যাতত্ত্বের হিসেবেই নারী এবং বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব সেভাবে নেই বিভিন্ন টেক কোম্পানিতে।

গুগলও তার ব্যতিক্রম নয়।

 

এই কোম্পানিতে কর্মীদের ৭৫ শতাংশ পুরুষ। একই সঙ্গে  মোট কর্মীদের ৯৩ শতাংশই শেতাঙ্গ এবং এশিয়ান। শুধু পুরুষ প্রাধান্যই নয়, সিলিকন ভ্যালির বিভিন্ন টেক কোম্পানিতে নারীদের ওপর যৌন হেনস্থা চালানোর অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন সময়ে।

 

এছাড়া কোম্পানির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেও পেছনে রাখা হয় নারীদের, এই অভিযোগও দীর্ঘদিনের।

২০১৪ সালে যৌন হেনস্থার অভিযোগ সামনে আসার পর কোম্পানি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল গুগলের অন্যতম শীর্ষ কর্তা অ্যান্ডি রুবিনকে। যদিও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জনক রুবিনকে কোম্পানি ছাড়ার সময় নয় কোটি ডলার দেয়া হয় কোম্পানির তরফে।

 

সেই তথ্য সামনে আসার পরই ওঠে সমালোচনার ঝড়। যৌন হেনস্থার দোষে দুষ্ট একজন কর্মীকে কী কারণে আর্থিক প্যাকেজ দেয়া হলো, তাই নিয়েই উঠেছিল প্রশ্ন। ৪৮ কর্মীকে বরখাস্ত করার কথা জানালেও রুবিনের বিষয়টি নিয়ে এখনো মুখ খোলেনি গুগল।

 

শুধু গুগল নয়, কিছুদিন আগে উবার কোম্পানিতেও যৌন হেনস্থার অভিযোগ সামনে এনেছিলেন এক নারী কর্মী। তার অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করা হয়। সেই অভিযোগের জেরে শেষ পর্যন্ত নিজেদের নীতি বদলাতে বাধ্য হয় উবার। পদত্যাগ করতে বাধ্য হন কোম্পানির চিফ এক্সিকিউটিভ ট্রাভিস কালানিক।

 


Top