জামায়াত সদস্যদের ভোট থেকে দূরে রাখতে যে ব্যাখ্যা দিলো নির্মুল কমিটি | daily-sun.com

জামায়াত সদস্যদের ভোট থেকে দূরে রাখতে যে ব্যাখ্যা দিলো নির্মুল কমিটি

ডেইলি সান অনলাইন     ২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ১৮:৩১ টাprinter

জামায়াত সদস্যদের ভোট থেকে দূরে রাখতে যে ব্যাখ্যা দিলো নির্মুল কমিটি

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আদালতের নির্দেশে নির্বাচনের অযোগ্য হওয়ায় দলটির সকল সদস্যও নির্বাচনের অযোগ্য। তারা স্বতন্ত্র থেকেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

নির্বাচন কমিশনে এমন আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার কার্যালয়ে মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে ঘণ্টা খানেক বৈঠক করে কমিটির ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল।


জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে রায়ের ব্যাখ্যায় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু আমি বিষয়টি জানি, তাই ব্যাখ্যা দিয়েছি যে, জামায়াতকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করেছে আদালত। তাই জামায়াতের কোনো সদস্য কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এই ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছে।


সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, জঙ্গি, সন্ত্রাসী সংগঠনও যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। এক্ষেত্রে হেফাজতে ইসলামও যদি নির্বাচনে অংশ নেয়, তারা যে সন্ত্রাসী সংগঠন তা আমরা চ্যালেঞ্জ করতে পারব।


অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বলেন, আমরা তিনটি দাবি জানিয়েছি, প্রথমত- জামায়াতসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোনো দল বা ব্যক্তি যেন নির্বাচনের সুযোগ না পায়। এ জন্য প্রার্থীর কাছ থেকে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেওয়া, যে তিনি কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, স্বাধীনতাবিরোধী নয়, আদালতের রায়ে নিবন্ধন বাতিল হওয়া বা নির্বাচনের অযোগ্য কোনো দলের সদস্য নয় বা সম্পৃক্ত নয়।


দ্বিতীয়ত- সংখ্যালঘুদের নিরাপত্ত নিশ্চিত এবং তৃতীয়ত- সেনাবাহিনীকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না করা।


ইসির কাছে কমিটির লিখিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ঝুঁকিপূর্ণ সকল নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে হুমকি প্রদানকারীদের শাস্তির আওতায় আনা; জামায়াতের অনুসারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলকে ঘোষণা করতে হবে যে, তাদের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই; নির্বাচনের সময় মুক্তিযুদ্ধ ও সংবাধান বিরোধী এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ প্রচারকারীদের শাস্তির আওতায় আনা; ৭১ এর গণহত্যাকারীদের সন্তান বা পরিবারের অন্যান্য সদস্য, যারা সর্বোচ্চ আদালতের রায় অগ্রাহ্য করছে তাদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অযোগ্য ঘোষণা এবং সেনাবাহিনীকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করলে তাদের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে বলে দাবিতে উল্লেখ করা হয়।


বৈঠকে সিইসির সঙ্গে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

 


Top