মানহানির মামলায় মইনুলের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ | daily-sun.com

মানহানির মামলায় মইনুলের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

ডেইলি সান অনলাইন     ২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ১৪:১৬ টাprinter

মানহানির মামলায় মইনুলের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

 

টেলিভিশন টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে কটূক্তির অভিযোগে রংপুরে দায়ের করা একটি মানহানির মামলায় গ্রেফতার সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর হাকিম (এসিএমএম) কায়সারুল ইসলাম শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


এর আগে দুপুর দুইটার দিকে মইনুল হোসেনকে আদালতে তোলা হয়। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করেনি পুলিশ।


এর আগে দুপুর ১টার দিকে ঢাকা মহানগর আদালতে নেয়া হয়। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম (এসিএমএম) কায়সারুল ইসলামের আদালতে মইনুলের জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


এর আগে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে থেকে তাকে আদালতের উদ্দেশে নেয়া হয়।


সোমবার (২২ অক্টোবর) রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ডিবি পুলিশের একটি দল রাজধানীর উত্তরায় জেএসডি নেতা আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। আটকের পরপরই ব্যারিস্টার মইনুলকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেয়া হয়। তাকে সেখানে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।


ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম গণমাধ্যমকে জানান, ব্যারিস্টার মইনুলকে রংপুরে করা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।


রংপুরে সোমবার (২২ অক্টোবর) ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন মানবাধিকারকর্মী মিলি মায়া। তিনি রংপুর নগরীর মুলাটোল মহল্লার বাসিন্দা।


মানবাধিকারকর্মী মিলি মায়ার পক্ষে রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দাখিল করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আইনুল হোসেন। আদালতের বিচারক আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা মামলাটি গ্রহণ করেন।


একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে কামাল হোসেনের উদ্যোগে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সক্রিয় আছেন ব্যারিস্টার মইনুল। রবসহ ফ্রন্টের বিভিন্ন নেতার বাড়িতে বৈঠকে তার নিয়মিত যাতায়াত।


জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার পর আ স ম রবের সাথে সাক্ষাত করতে তার উত্তরার বাসায় যান মইনুল৷ কিন্তু রব তখন বাসায় ছিলেন না। মইনুল সেখানে কিছুক্ষণ রবের জন্য অপেক্ষা করেন। রব বাসায় ফেরার কিছুক্ষন পরই ডিবি পুলিশের সদস্যরা তার বাসা ঘিরে ফেলে। তবে আটকের আগে ডিবি পুলিশের একটি টিম তার গতিবিধি লক্ষ্য করছিলেন। একজন পুলিশ সুপার মর্যাদার কর্মকর্তা এর নেতৃত্ব দেন।


উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা মইনুলের বিরুদ্ধে রংপুরের একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার কথা জানান। এরপরই মইনুলকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়৷


আ স ম আব্দুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব বলেন, ‘আমরা বাসায় ছিলাম না। রাতে এসে দেখি অনেক লোক, একটু আবাকই হলাম। আজ কোনো মিটিং ছিল না। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন এমনিতেই এসেছিলেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে তাকে ডিবি পুলিশ নিয়ে গেছে। ’


রংপুরের মামলায় জামিন ছিল না মইনুলের: গত ১৬ অক্টোবর একাত্তর টেলিভিশনের  টক শো ‘একাত্তরের জার্নাল’ এ অংশ নেন সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি এবং বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত। টক শো ‘একাত্তরের জার্নাল’ এর উপস্থাপক মিথিলা ফারজানা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে যুক্ত করার পর মাসুদা ভাট্টি তার কাছে একটি প্রশ্ন করতে চান এবং জানতে চান- ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আপনি যে হিসেবে উপস্থিত থাকেন- আপনি বলেছেন আপনি নাগরিক হিসেবে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, আপনি জামায়াতের প্রতিনিধি হয়ে সেখানে উপস্থিত থাকেন। ’

 
মাসুদা ভাট্টির এই প্রশ্নে রেগে গিয়ে মইনুল হোসেন বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই। আমার সঙ্গে জামায়াতের কানেকশনের কোনো প্রশ্নই নেই। আপনি যে প্রশ্ন করেছেন তা আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। ’


পরে ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রবিবার (২১ অক্টোবর) সকালে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।


অন্যদিকে মইনুলের একই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জামালপুর ও কুড়িগ্রামে তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মানহানির মামলা করা হয়েছে।


তবে ঢাকা ও জামালপুরের মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পান ব্যারিস্টার মইনুল। আর কুড়িগ্রামের মামলায় হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছেন তিনি।


এছাড়া ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক নারী সাংবাদিক মামলা দায়ের করেছেন। আয়েশা আহমেদ লিজা নামের ওই সাংবাদিক সোমবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে এই মামলা দাখিল করেন।


তবে রংপুরের মামলাটিতে জামিন ছিল না বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


এদিকে মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার চাওয়া প্রচলিত আইনে তার বিচার হোক। সত্য প্রকাশ পাক। তার ওপর আমার ব্যক্তিগত কোনো রাগ বা ক্ষোভ নেই।


এদিকে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি কোন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মিটিংয়ে জামায়াতের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন বলে যে মন্তব্য করেছেন তা জাতির সামনে তুলে ধরতে তাকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২২ অক্টোবর) আইনজীবী সমাজের পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এসএম জুলফিকার আলী জুনু রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মাসুদা ভাট্টিকে এ নোটিশ পাঠান।


পাশাপাশি নোটিশের জবাব না পাওয়া গেলে মাসুদা ভাট্টির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে ডিএমপি পুলিশ কমিশনারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


এ ছাড়া ওই উকিল নোটিশে মাসুদা ভাট্টিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।


যদিও টেলিভিশন টকশোতে ওই কটূক্তির পর বুধবার (১৮ অক্টোবর) মাসুদা ভাট্টির কাছে ফোন করে ক্ষমা চান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। ফোনে তিনি মাসুদা ভাট্টিকে বলেন, ‘আমার ব্যবহারটা অত্যন্ত লজ্জাজনক হয়েছে আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি। ’ তবে ফোনে মাসুদা ভাট্টি তাকে জবাব দেন, ‘আপনি তো আমাকে অন-এয়ারে টেলিভিশনে এসব কথা বলেছেন, এভাবে একা ফোনে বললে তো হবে না। ’


উত্তরে ব্যারিস্টার মইনুল বলেন, ‘যদি টেলিভিশনে সুযোগ হয় আমি সেখানেও বলবো। ’

 
এ বিষয়ে মাসুদা ভাট্টি বুধবার রাতেই গণমাধ্যমকে বলেন, ‘উনি ক্ষমা চেয়ে আমার কাছে ফোন করেছিলেন কিন্তু আমি বলেছি এভাবে ক্ষমা চাইলে হবে না। যেহেতু আমাকে উনি অন-এয়ারে বলেছেন, তাই ক্ষমাটা অন-এয়ারেই চাইতে হবে। ’


এদিকে এ ঘটনায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে গত শনিবার (২০ অক্টোবর) বিবৃতি দেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৫৫ সম্পাদক ও বেশ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক।

 
এর আগে ১৮ অক্টোবর ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেয়ার হুশিয়ারি দিয়ে নারী সাংবাদিকরা সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা দুটি দাবি তুলে ধরেন। তা হল- ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে তার অপরাধ স্বীকারপূর্বক নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ভবিষ্যতে তিনি এ রকম ব্যক্তি আক্রমণ থেকে বিরত থাকবেন।


নারী সাংবাদিককে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ‘বয়কট’ করার জন্য নারীদের প্রতি আহ্বানও জানান মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।


তবে এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মইনুল ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশনের প্যাডে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন- ওই মন্তব্যের জন্য তিনি টেলিফোনে মাসুদা ভাট্টির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তার পরও ‘মহলবিশেষ’ তার বিরুদ্ধে ‘অশালীন ভাষায়’ বক্তব্য দেয়ায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করছেন। ‘মাসুদা ভাট্টি আমার রাজনৈতিক সত্তা ও সততা নিয়ে দারুণ আপত্তিকর ও অবমাননাকর বক্তব্য রেখেছেন। তাই আমিও তার সাংবাদিকতার নিরপেক্ষ চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করেছি। তাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি না, তাই তার ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে কিছু বলার প্রশ্নই ওঠে না।


তিনি আরও লেখেন, সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি বলেছেন- লোকে আমাকে সেভাবে দেখে বলেই তিনি বলেছেন। কিন্তু ফেসবুকে মাসুদা ভাট্টির ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে জঘন্য ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। এসব বিষয় উল্লেখ করে আমি তো তার সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করছি না। ’ ‘অবাধ’ নির্বাচনের দাবিতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ায় কিছু লোক ‘বেসামাল’ হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেছেন মইনুল।

 

আরও পড়ুন:

 

তারেকের নেতৃত্ব ধ্বংস করার জন্যই ড. কামালকে আনা হয়েছে: ফোনালাপে মইনুল

 

মইনুলের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা এবং গ্রেফতারের ঘটনা নিঃসন্দেহে আতঙ্কের: ড. কামাল

 

আমার চাওয়া প্রচলিত আইনে মইনুল হোসেনের বিচার হোক: মাসুদা ভাট্টি

 

যেভাবে গ্রেফতার হন ব্যারিস্টার মইনুল

 

রবের বাসা থেকে মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার

 

ভোলায় মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা

 

এবার মাসুদা ভাট্টির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন মইনুল হোসেন

 

এবার মইনুলের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা

 

তস‌লিমার সমা‌লোচনার জবা‌বে যা বল‌লেন মাসুদা ভা‌ট্টি

 

পৃথক দু’টি মানহানির মামলায় ৫ মাসের জামিন পেলেন ব্যারিস্টার মইনুল

 

ঢাকায়ও ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

 

এবার মইনুলের বিরুদ্ধে মাসুদার মানহানি মামলা

 

ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা


ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থা: নারী সাংবাদিক কেন্দ্র


মাসুদা ভাট্টির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ব্যারিস্টার মইনুলের

 

 


Top