কারা ঐক্য করেছে তা খেয়াল রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী | daily-sun.com

কারা ঐক্য করেছে তা খেয়াল রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ২২ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:৫৯ টাprinter

কারা ঐক্য করেছে তা খেয়াল রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

 

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে সেটাকে সাধুবাদ জানাই। তবে কারা ঐক্য করেছে তা খেয়াল রাখতে হবে।

দেখতে হবে কার কী অঙ্গভঙ্গি, কার কী বাচনভঙ্গি সেটা দেখতে হবে। এদের একজন মেয়েদের প্রতি কী ধরনের কটূক্তি করেছে সেটাও দেখেছেন। ঐক্যফ্রন্টে এ গাছের ছাল, ও গাছের বাকল যোগ দিয়েছে। আওয়ামী লীগ এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করছে না।


সোমবার (২২ অক্টোবর) গণভবনে সৌদি সফর সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে বিকেল ৪টায় লিখিত বক্তব্য পাঠ শুরু করেন তিনি। এরপর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানুষ এটাকে (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) কীভাবে দেখছে সেটাই দেখার বিষয়। তারা রাজনৈতিকভাবে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারলে করুন।

এখানে অসুবিধার তো কিছু নেই।


প্রধানমন্ত্রী এ সময় সাম্প্রতিক সৌদি আরব সফর নিয়ে বলেন, সৌদি আরবের বাদশাহ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রসংশা করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা রক্ষায় আগামীতে আমাদের সরকারের ধারাবাহিকতার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সৌদি আরবের মহামান্য বাদশাহকে বাংলাদেশ সফরে স্বাগত জানালে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।


প্রধানমন্ত্রী দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক, বাদশাহ সালমান ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা তুলে ধরেন। অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।


মন্ত্রিসভা ছোট করার দরকার আছে-এমন প্রশ্ন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মন্ত্রিসভা বড় থাকলে কোনো সমস্যা আছে কি? আইনে কোনো বাধা আছে। তাহলে সমস্যা কী? বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এভাবেই নির্বাচন হয়। এখন দেখা যাক, অপোজিট পার্টি ডিমান্ড করলে করব, না করলে করব না।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত নির্বাচনে তৎকালীন বিরোধীদল বিএনপিকে আহ্বান জানিয়েছিলাম-যেন তারা মন্ত্রিসভায় আসে। সবাই মিলে একটা মন্ত্রিসভা করে নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা আসেনি। পরবর্তীতে আমরা মন্ত্রিসভা ছোট করে একটা নির্বাচন করেছি। কিন্তু এখন প্রেক্ষাপট আলাদা। আগের মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল ছিল না। এখন জনগণের প্রতিনিধিদের প্রায় সবাই মন্ত্রিসভায় রয়েছে। এজন্য মন্ত্রিসভা ছোট করার প্রয়োজনই আছে কিনা।


শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের অনেকগুলো উন্নয়নমূলক প্রকল্প চলমান রয়েছে, অনেক কাজ করতে হবে। মন্ত্রিসভা ছোট হলে আমাদের উন্নয়নে সমস্যা হবে কিনা সেটাই ভাবছি। আপনার দেখছেন, প্রতি সপ্তাহে ১৮-১৯টি করে প্রকল্প অনুমোদন হচ্ছে। উন্নয়ন যে করা যায়, সেটা দেখাচ্ছি। সব মন্ত্রীরাই প্রচুর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।


তিনি বলেন, এখন মন্ত্রিসভা ছোট করে একজনকে দু-তিনটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলে পারবে কিনা। এতে উন্নয়নে বাধা হবে কিনা সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। আগামী ৩-৪ মাসে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিতে চাই। যা হোক, আমি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করেছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এভাবে নির্বাচন হয়। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ব্রিটেন, ভারতের মতো দেশে এভাবে নির্বাচন হয়ে থাকে।


প্রসঙ্গত, সৌদি বাদশা ও দুটি পবিত্র মসজিদের খাদেম সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী গত ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর সৌদি আরবে চার দিনের সরকারি সফর করেন।


সফর শেষে তিনি শুক্রবার মধ্যরাতে (শনিবার, ২০ অক্টোবর) দেশে ফেরেন। সফরে প্রধানমন্ত্রী রিয়াদের রাজপ্রাসাদে সৌদি বাদশাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তার সম্মানে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।


প্রধানমন্ত্রী সৌদি যুবরাজ, উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মাদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে এক বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।


তিনি কাউন্সিল অব সৌদি চেম্বার ও রিয়াদ চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতাসংক্রান্ত পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।


তিনি মক্কা শরিফে পবিত্র ওমরাহ পালন এবং মদিনায় মসজিদে নববীতে মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.)-এর পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারত করেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী রিয়াদে ডিপ্লোমেটিক কোয়ার্টার্সে বাংলাদেশ চ্যান্সেরি ভবনের উদ্বোধন করেন এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল চ্যান্সেরি বিল্ডিংয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

 


Top