মৃত্যুবার্ষিকীতে আপন গৃহে ফাদার রিগন! | daily-sun.com

মৃত্যুবার্ষিকীতে আপন গৃহে ফাদার রিগন!

ডেইলি সান অনলাইন     ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ১৩:৫৭ টাprinter

মৃত্যুবার্ষিকীতে আপন গৃহে ফাদার রিগন!

 

প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আপনগৃহে ফিরলেন ফাদার রিগন। রবিবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪৭ মিনিটে তার নিষ্প্রাণ দেহ বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে মোংলা শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে অবতরণ করে।

এ সময় প্রিয় মানুষটিকে দেখতে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। উপস্থিত ছিলে বাগেরহাট ৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।


হেলিকপ্টারে ফাদার রিগনের মৃতদেহের সাথে ছিলেন বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সচিব নমিতা হালদার, ইতালিয়ন রাষ্ট্রদূত মারিও পালমা, ফাদার রিগনের ছোট বোনের ছেলে মারিনো জুনিয়র ক্যাবেষ্ট্র।


এরপর মোটর শোভাযাত্রা সহকারে মরদেহ উপজেলা প্রশাসনের মাঠে নেয়া হয়। পরে উন্মুক্ত মঞ্চে তার কফিন সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের জন্য রাখা হয়।


গার্ড অব অনার প্রদানের পর সেন্ট পলস গির্জার (ক্যাথলিক চার্চ মিশন) পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে ফাদার মারিনো রিগনকে।

 


মরলে বাংলার মাটিতেই মরব!- জীবদ্দশায় বাংলাদেশের সন্মানসূচক নাগরিক ও মুক্তিযোদ্ধা ফাদার মারিনো রিগনের উক্তি এটি। ২০০১ সালে বাংলাদেশে তার হৃদযন্ত্রে অসুস্থতা ধরা পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইতালিতে যেতে স্বজনদের অনুরোধ উপেক্ষা করে এমন মন্তব্য করেছিলেন তিনি।


অবশ্য স্বজনদের প্রবল আকুতি-মিনতির পর তখন ফাদার রিগন ইতালিতে গিয়েছিলেন এই শর্তে- যদি তার মৃত্যু হয়, তাহলে অবশ্যই মরদেহটি বাংলাদেশে পাঠাতে হবে।


পরে চিকিৎসা শেষে বাংলাদেশে ফিরলেও অসুস্থতার কারণে ২০১৪ সালে আবারও ফিরে যান ইতালিতে। সেখানেই ভিচেঞ্চা শহরে গত বছরের ২১ অক্টোবর ৯৩ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তবে প্রয়াতের শেষ ইচ্ছার কথা ভুলে যাননি তার স্বজন বা বাংলাদেশ সরকার।


ফাদার রিগন ছিলেন একাধারে দার্শনিক, লেখক, অনুবাদক, মানবসেবক ও সমাজসেবক। মানবসেবা, সৃজনশীল কর্মকান্ড ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দিয়েছে। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন।

 

 

 

 


Top