খাশোগির দেহ খুঁজতে জঙ্গলে তুর্কি তদন্তকারী দল | daily-sun.com

খাশোগির দেহ খুঁজতে জঙ্গলে তুর্কি তদন্তকারী দল

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:৪৪ টাprinter

খাশোগির দেহ খুঁজতে জঙ্গলে তুর্কি তদন্তকারী দল

 

নিখোঁজ সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে সন্দেহ করে তার মৃতদেহের খোঁজে ব্যাপক আকারে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে তুরস্কের তদন্ত কর্মকর্তারা। নাম গোপন রাখার শর্তে তুরস্কের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, খাশোগির মৃতদেহ কাছাকাছি কোনো জঙ্গল বা কৃষি খামারে ফেলে দেয়া হয়ে থাকতে পারে।


বুধবার ও বৃহস্পতিবার তুরস্কের তদন্ত কর্মকর্তারা প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে সৌদি কনসালের বাসভবন তল্লাশি করে। এরপর তারা ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত কনস্যুলেটে তল্লাশি চালায়।


এছাড়া এ সপ্তাহে সৌদি কনস্যুলেট ও কনসালের বাসভবন তল্লাশির সময় সংগ্রহ করা ডিএনএ নমুনা খাশোগির ডিএনএ'র সঙ্গে মেলে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।


এদিকে সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত ১৫ সদস্যের ঘাতক টিমের সদস্য মাশআল সা’দ আল বাসতানি নিহত হয়েছেন। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গাড়িচাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তুরস্কের দৈনিক ‘ইয়ানি শাফাক’ খবর প্রকাশ করেছে।

 


পত্রিকাটি লিখেছে, সৌদি বিমান বাহিনীর ৩১ বছর বয়সী লেফট্যানেন্ট সা’দ আল বাসতানি সাংবাদিক খাশোগি নিখোঁজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাকে সাজানো সড়ক দুর্ঘটনায় হত্যা করে খাশোগি হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত কিছু তথ্য-প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ঘাতক টিমের অন্য ১৪ সদস্যের মুখ চিরতরে বন্ধ রাখতে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পত্রিকাটি মন্তব্য করেছে।


খাশোগি কনস্যুলেটে প্রবেশের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সৌদি ডিপ্লোম্যাটিক নম্বর প্লেটযুক্ত কয়েকটি গাড়ি কনস্যুলেট থেকে বাসভবনের দিকে যায়, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে তা জানা যায়।


গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগি তার আগের তালাকের কাগজপত্র আনতে যান। এ সময় কনস্যুলেটের বাইরে তার বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিজের কাছে তিনি তার ফোনটি রেখে যান। তিনি ফিরে না এলে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের এক উপদেষ্টাকে ফোন করার নির্দেশও হাতিসকে দিয়ে যান খাশোগি। ওই দিন মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষার পর হাতিস তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেন।

তুরস্ক দাবি করছে, খাশোগিকে কনস্যুলেটের ভেতর হত্যা করা হয়েছে এবং তার অডিও ও ভিডিও প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। তবে সৌদি আরব এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

 


খাশোগি সৌদি যুবরাজ তথা রাজপরিবারের সমালোচনা করায় সৌদি পত্রিকায় তার কলাম বন্ধ করে সতর্ক করে দেয়া হয়। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে গিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় লেখালেখি করছিলেন।


খাশোগির পরিচিত একজন গণমাধ্যমকে জানান, তাকে প্রলোভন দেখিয়ে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও চেষ্টা করেছিল সৌদি সরকার।

 


Top