৭ মিনিটেই খাসোগিকে শেষ, জীবিত অবস্থায়ই টুকরো টুকরো করে দেয় ঘাতকেরা | daily-sun.com

৭ মিনিটেই খাসোগিকে শেষ, জীবিত অবস্থায়ই টুকরো টুকরো করে দেয় ঘাতকেরা

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:৪৭ টাprinter

৭ মিনিটেই খাসোগিকে শেষ, জীবিত অবস্থায়ই টুকরো টুকরো করে দেয় ঘাতকেরা

 

সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের সাত মিনিটের মধ্যে ঘাতকরা সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে টুকরো টুকরো করে হত্যা করে বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই পত্রিকা। খাসোগির জীবনের শেষ মুহূর্তের অডিও রেকর্ডিং পুরোটা শুনেছেন এমন একজন তুর্কি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে একথা জানায় পত্রিকাটি।


খবরে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নয় খাসোগিকে হত্যার জন্যই ইস্তাম্বুলে গিয়েছিল সৌদি ঘাতকেরা।


খাসোগিকে সৌদি এজেন্টরা জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভুলক্রমে তিনি নিহত হন, সৌদি আরব এমন রিপোর্ট তৈরি করছে বলে খবর প্রকাশ হওয়ার পর মিডল ইস্ট আই হত্যাকাণ্ডের বিশদ বিবরণ প্রকাশ করল।


বীভৎস হত্যাকাণ্ডের বর্ণনায় তুরস্কের সূত্রটি জানায়, খাসোগিকে কনসাল জেনারেলের অফিস থেকে টেনে-হিঁচড়ে পাশের একটি কক্ষের টেবিলের ওপর নিয়ে ফেলা হয়। এসময় নিচের তলায় উপস্থিত একজন ব্যক্তিও ভয়ঙ্কর চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। একসময় খাসোগিকে কোনো ধরনের চেতনানাশক দিয়ে তার চিৎকার বন্ধ করা হয় বলে জানায় পত্রিকাটি।  


‘স্বয়ং কনসালকেও তার কক্ষ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো চেষ্টাই করা হয়নি। ঘাতকরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই গিয়েছিল,’ মিডল ইস্ট আইকে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।


গত ২ অক্টোবর খাসোগি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর থেকে তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ওইদিন খাসোগি তার আগের বিয়ের তালাকের কাগজপত্র আনতে সৌদি কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন।


এর আগের দিন একটি ব্যক্তিগত বিমানে ১৫ জন ঘাতকের একটি দল সৌদি থেকে ইস্তাম্বুলে গিয়ে পৌঁছান। এদের মধ্যে সৌদি নিরাপত্তা বিভাগে ফরেনসিক প্রধান সালাহ মুহাম্মদ আল-তুবাইগিও ছিলেন। খাসোগি জীবিত থাকতেই তাকে টেবিলের ওপর টুকরো টুকরো করতে শুরু করে তুবাইগি, জানায় তুরস্কের সূত্রটি। হত্যাকাণ্ড শেষ করতে সাত মিনিট সময় লাগে, যোগ করে সূত্রটি।


খাসোগির দেহ কাটার সময় তুবাইগি কানে ইয়ারফোন দিয়ে গান শুনতে শুরু করে এবং দলের অন্যান্যদেরও একই কাজ করতে বলে। ‘আমি কাজ করার সময় গান শুনি। তোমাদেরও একই কাজ করা উচিৎ,’ অডিও রেকর্ডিং-এ তুবাইগিকে বলতে শোনা যায়।


মিডল ইস্ট আই জানায়, অডিও রেকর্ডিং-এর তিন মিনিট অংশ তুরস্কের সাবাহ পত্রিকাকে দেয়া হয়েছে তবে তারা সেটি এখনও প্রকাশ করেনি।


তুরস্কের একটি সূত্র মার্কিন পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানায়, তুবাইগি সৌদি ফেলোশিপ অফ ফরেনসিক প্যাথলজির প্রেসিডেন্ট।


২০১৪ সালে লন্ডনভিত্তিক সৌদি পত্রিকা আশারাক আল-আসওয়াত তুবাইগির একটি সাক্ষাৎকার নেয়। সেখানে সে একটি মোবাইল ক্লিনিকে কিভাবে সাত মিনিটের মধ্যে মৃত হজ যাত্রীদের অটোপসি করার বিষয়ে কথা বলে। এই মোবাইল ক্লিনিক ক্রাইম সিনেও ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানায় সে।


গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগি তার আগের আগের তালাকের কাগজপত্র আনতে যান। এসময় কনস্যুলেটের বাইরে তার বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিজের কাছে তিনি তার ফোনটি রেখে যান। তিনি ফিরে না এলে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের এক উপদেষ্টা ফোন করার নির্দেশও হাতিসকে দিয়ে যান খাসোগি। ওই দিন মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষার পর হাতিস তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেন।


খাসোগি সৌদি যুবরাজ তথা রাজপরিবারের সমালোচনা করায় সৌদি পত্রিকায় তার কলাম বন্ধ করে সতর্ক করে দেয়া হয়। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে গিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় লেখালেখি করছিলেন।


খাসোগির পরিচিত একজন গণমাধ্যমকে জানান, তাকে প্রলোভন দেখিয়ে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও চেষ্টা করেছিল সৌদি সরকার।


তুরস্কের কর্মকর্তারা বলছেন খাসোগিকে কনস্যুলেটের ভিতর হত্যা করা হয়েছে তার অডিও এবং ভিডিও প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। কিন্তু, সৌদি কর্তৃপক্ষ খাসোগি নিখোঁজের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে।

 


Top